সৌদি আরবে স্ত্রীর বিয়ে করার গুজবে অভিমান করে নওগাঁর রাণীনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে স্বামী মানিক শেখ (৩৬) আত্মহত্যা করেছেন। রোববার গভীর রাতে উপজেলার চকাদিন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে থানাপুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলার আমনুরা পাওয়েল এলাকার মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে মানিক শেখ গত প্রায় ১৬/১৭ বছর আগে রাণীনগর চকাদীন এলাকায় এসে লেপ, তোষক, বালিশ তৈরি কারখানা করে ব্যবসা করে আসছিলেন। ব্যবসা চলাকালে একই এলাকার বাছেদ আলীর মেয়ে দিলরুবাকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে তিন ছেলে জন্ম নেয়। হতদরিদ্র ও খেয়ে না-খেয়ে চলা সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আনতে দু’বছর আগে স্ত্রী দিলরুবাকে সৌদি আরবে পাঠান তিনি।
এর পর স্ত্রীর পাঠানো টাকায় জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছেন মানিক। এমতবস্থায় তিন/চার মাস আগে থেকে স্বামী মানিক তার স্ত্রী দিররুবাকে বিদেশ থেকে বাড়িতে আসার চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু কাগজপত্রের কিছু জটিলতার কারণে আসতে পারছিলেন না জানালে এবং বিভিন্ন লোকজনের উস্কানিমূলক কথায় স্ত্রীর প্রতি নানা রকম সন্দেহ সৃষ্টি হয় মানিকের।
৩/৪ দিন আগে থেকে স্বামী মানিক নিজেই তার স্ত্রী সৌদিতে বিয়ে করেছে এমনটি বন্ধু-বান্ধবদের কাছে প্রচার করতে থাকেন। এরই জের ধরে রোববার গভীর রাতে স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে থাকেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সৌদি থেকে দিলরুবা তার মা’কে মোবাইল ফোনে সাথে সাথে বিষয়টি জানান।
এ সময় মা দ্রুত মানিকের বাড়িতে পৌছে জানালা দিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। তিনি স্থানীয় লোকজনদের ডেকে তুলে টিনের চালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে লাশ নামান। খবর পেয়ে পরের দিন সকালে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় ।
এ ব্যাপার মানিকের শাশুড়ি নাজিরা বিবি জানান, ২/৩ দিন আগে থেকে আমার জামায় একে ওকে বলছে আমার মেয়ে নাকি সৌদি আরবে বিয়ে করেছে। এটা নিয়ে আমার সাথে জামায়ের প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো । রাতে সৌদি থেকে মেয়ে মোবাইল ফোন করেছে যে জামায় গলায় দড়ি দিচ্ছে । এমনটি শুনেই দ্রুত জামায়ের বাড়িতে পৌছে জানালা দিয়ে জামায়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই।
রাণীনগর থানার ওসি এ এস এম সিদ্দিকুর রহমান জানান, সৌদি প্রবাসী স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে মানিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন । তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে । এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরো খবর :
গলায় ওড়না পেছানো গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের খন্দকারপাড়া গ্রামে সোমবার সকালে গলায় ফাঁস দেয়া তানিয়া (২৩) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পর থেকে স্বামী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন। তবে গৃহবধূ তানিয়া হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের তোজাম্মেল হকের মেয়ে তানিয়া খাতুন এর সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে একই উপজেলার গাড়িদহ দশমাইল এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মেহেদী হাসানের সাথে বিয়ে হয় প্রায় ৩ বছর পূর্বে। মেহেদীর পিতার অবাধ্য হওয়ায় স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে গত ১ বছর থেকে পৌর শহরের খন্দকারপাড়ায় জনৈক জালালের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করেন। এরই একপর্যায়ে গত সোমবার ভোররাতে সেহরীর পর তানিয়ার নিজ ঘরের বিছানার ওপরে গলায় ওড়না পেছানো ফাঁস দেয়া লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন তার বাবা।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ছুটে এসে লাশ প্রত্যক্ষ করে থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে বেলা ১১টার দিকে থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক এবাদ আলী মোল্লা নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে তানিয়া’র মৃত্যু হওয়ার পর থেকেই তার স্বামী মেহেদী পলাতক রয়েছেন।
অন্য দিকে বিয়ের পর থেকেই তানিয়াকে মাদকাসক্ত স্বামী মেহেদী যৌতুকের দাবিতে নানাভাবে নির্যাতন করতেন বলে জানিয়েছেন নিহতের পিতা তোজাম্মেল হক। তিনি আরো জানান, তার মেয়ে তানিয়া ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর একটি বেসরকারি কলেজে ডিপ্লোমা করছেন। তানিয়া’র হত্যা বা আত্মহত্যার স্পস্ট কারণ জানা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক এবাদ আলী মোল্লা জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রির্পোট সাপেক্ষেই আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।
আরো খবর :
ঈদের জামা পছন্দ না হওয়ায় আত্মহত্যা
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্মপুর ইউনিয়নের বেলুহার গ্রামের তসলিম মিয়ার মেয়ে ও সেরাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী তাহসিনা আক্তার সেতুসহ অন্য আরেক মেয়ের জন্য ঈদের একই রং’র জামা কেনেন পিতা তসলিম। স্কুল ছাত্রী তাহসিনা আক্তার সেতুর জামার রং পছন্দ না হওয়ায় রোববার সন্ধ্যায় পিতা-মাতার সাথে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ কারণে পিতা-মাতার ওপর অভিমান করে রোববার রাতে ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে সেতু।
খবর পেয়ে সোমবার সকালে এসআই মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এসআই মিজানুর রহমান জানান, লাশের পোস্টমর্টেম না করে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে লাশ মাটি দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।





