দেশের অন্যতম এবং প্রথম ডিজিটাল বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির সব কিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে কিন্তু এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি কেন্দ্রিয় মিলনায়তনে। আজো সেকেলে রয়ে গেছে রাবির কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন। নেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা, আধুনিক শব্দ নিয়ন্ত্রক, লাইটিংসহ অনেক কিছুই। তবে এই বেহাল অবস্থার মধ্যেও থেকে থাকে না প্রায় ২ হাজার আসনের এই মিলনায়তনে কোন অনুষ্ঠানি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮টি বিভাগ, জেলা-উপজেলা সমিতি, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক কিংবা সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রায় সকল আয়োজনই এই মিলনায়তনের উপর অনেকটাই নির্ভশীল। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বড় আয়োজনের জন্য ক্যাম্পাসে বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় এই গরমের মধ্যে অডিটরিয়মের ভেতরে একেবারে অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে অনুষ্ঠান দেখতে হয় আমাদের।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এতে নজর নেই কর্তৃপক্ষের। বাজেটে নেই বরাদ্দও। ফলে আধুনিকায়ন হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এ মিলনায়তনটি। ফলে দিনে দিনে জৌলুস হারাচ্ছে এ মিলনায়তনটি।
সর্বপ্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। যেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের মিলানায়তনগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় শীতের সময় অধিক মাত্রায় শীত এবং গরমের সময় অধিক গরম অনুভুত হয়।
অন্য দিকে দেশের মন্ত্রী পরিষদ থেকে শুরু করে দেশবরেন্য ব্যক্তিবর্গ মিলনায়তনে অতিথি হয়ে আসেন । যদিও গরমের জন্য ভিতরে বৈদ্যুতিক পাখা রয়েছে তবে তার পরিমাণ আয়তনের তুলনায় খুবই সামান্য। বাধ্য হয়ে গরম সহ্য করেই বিভিন্ন সময়ে আয়োজকদেরকে তাদের অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত শীতের মধ্যে অনুষ্ঠান করতে হয় তাদের। একটি ভবনের সৌন্দর্য্য বা শোভা বৃদ্ধির জন্য সেই ভবনের লাইটিং ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হওয়া বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনটি ডিজিটাল হবে এটি এখন সময়ের দাবি মাত্র।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মিলনায়তনের ভিতরে প্রবেশ করলে বোঝা যায় এটা কোন অন্ধকার পৃথিবী যেখানে আলোর ছটাও পাওয়া মুশকিল। যদিও সেখানে উপরের দিকে লাইটিং তথা বৈদ্যুতিক বাল্ব এর ব্যবস্থা রয়েছে তবে তার অধিকাংশই অচল। অন্য দিকে মঞ্চের ভিতরের লাইট গুলির বেশির ভাগই নেই। আর ইলেট্রিকাল অন্যান্য সমস্যা তো আছেই। নিম্ন মানের বাল্ব লাগানেরা কারনে অল্পদিন যেতে না যেতেই তা নষ্ট হয়ে যায়।
একটি মিলনায়তনে সভা সমাবেশের জন্য উন্নত সাউন্ড সিস্টেম অপরিহার্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল মিলনায়তনটির উন্নত শব্দ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা দূরের কথা কোন ধরণের শব্দ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই। যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। একই সাথে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানাদির জন্য এমনকি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের অনুষ্ঠানাদির জন্যও বাহির থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া আনতে হয় এবং এতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয় প্রতিটি অনুষ্ঠানে।
আন্তর্জাতিক সেমিনার হওয়ার মত একটি মিলনায়তন হিসাবে উন্নত ডেকোরেশন ব্যবস্থাও নেই বিশ্ববিদ্যালয় মিলানায়তনে। বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ব্যক্তিরা এখানে আসেন। তবে তাদের অবস্থান অনুযায়ী মিলনায়তনের পরিবেশ উন্নত নয়। এছাড়া দীর্ঘদিন দেয়াল পেইন্ট না করার কারণে পেইন্টিং এর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে।
মিলনায়তন আধুনিকায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্যন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ^বিদ্যালয় উন্নত এবং দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও মিলনায়তনের অবস্থা খুবই নগন্ন।
রাবির ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থী সুইটি বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের থেকে যখন আধুনিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার মিলনায়তন আধুনিকান হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এটি সংস্কার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেই নি এটি সত্যিই দুঃখ জনক বিষয়।
মিলনায়তনের আধুনিকায়নের কথা জানতে চাইলে টিএসসিসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা বাজেট হয়েছে। আর এই বাজেটের ১১ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রিয় মিলনায়তনকে আধুনিকায়নের কাজের জন্য নির্ধারণ করা আছে। এটি দেশের অন্যতম একটি ডিজিটাল এবং অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম হবে বলে আমি আশা করি। এই কাজটি শুধু টেন্ডার অপেক্ষায় আছে। টেন্ডার হলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে টেন্ডার তো নীতি-নির্ধারকদের হাতে উনারাই এই বিষয়টি দেখছেন এবং কবে নাগাদ টেন্ডার করবেন বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খুব বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করি।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মিলনায়তনের আধুনিকায়নের কাজের টেন্ডারের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে ফোনে যোগযোগ করা হলে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।



