রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিনিয়ত বাড়ছে যৌন হয়রানি, ছিনতাই, চুরিসহ নানা ঘটনা। বিশেষ করে বহিরাগতের দ্বারা বারবার এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গত শনিবার ক্যাম্পাসের আবাসিক হলে ফেরার পথে অটোরিকশা চালকের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন মার্কেটিং বিভাগ ও খালেদা জিয়া হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ‘রীতা পরিবহণ’ নামের একটি অটোরিকশা চালক বলে জানা গেছে। ওই চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।
তবে এমন ঘটনায় প্রশাসনকে অবহিত করলেও সে বিষয়ে তারা কোন ব্যবস্থা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের জন্য গুরুত্বপূর্ণএলাকা বা আবাসিক হলে পুলিশ অবস্থান করলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে একের পর এক অঘটনে নিরাপত্তহীনতায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী থেকে জানা গেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে রবীন্দ্র কলা ভবন থেকে খালেদা জিয়া হলে যাচ্ছিলেন। এ সময় তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে একটি অটোরিকশা বেপরোয়া গতিতে এসে পেছন থেকে শ্লীলতাহানি করে। তিনি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তার পিঠে আঘাত করে রিকশা নিয়ে দ্রুত চলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুধু তাই নয়, গত ১৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক আহমেদ রাজ ও দুই বান্ধবীসহ স্থানীয়দের দ্বারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। তাছাড়া গত বছরের ১৭ নভেম্বর শোভা নামের এক শিক্ষার্থী হলের সামনে থেকে জোর পূর্বক তুলে অপহরণ করা হয়। ২০ নভেম্বর রাতে হলের সামনে বহিরাগত মোটর সাইকেলে এসে শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। ২১ নভেম্বর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী টিউশনি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে একা পেয়ে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবিতে মানববন্ধন, লিখিত অভিযোগ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে সবচেয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে আবাসিক হল চুরির ঘটনা। হলের কর্মরত দারোয়ান ও পুলিশ থাকা সত্ত্বেও ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেই থাকে। রাতের বেলা জানালে দিয়ে নিয়ে গেছে অথবা দিনের বেলা ক্যাম্পাসের গেছে ফিরে এসে দেখে রুমের তালা ভাঙ্গা। এদিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো প্রশাসন নোটিশ দিয়ে মোবাইল, ল্যাপটপ সচেতনভাবে রাখার জন্য বলা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ‘হলে চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জড়িত নয়। বরং গার্ড বা পুলিশের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে বহিরাগত টুকাই কিছু ছেলেরা এ সব চুরি করে থাকে।’
তাছাড়া রাতের বেলা তারা যেন অৎ পেতে থাকে। আবাসিক হলের রাস্তায়, শিক্ষকদের কোয়াটারের দিকে রাতের অন্ধকারের বিভিন্ন ভয়ভীতি এবং চাকু দেখিয়ে ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে বিশ^বিদ্যালয়ের জুবেরী মাঠ, ইবলিশ চত্বর, হবিবুর রহমান হলের ও চারুকলা অনুষদের রাস্তায় সন্ধ্যা হলেই ছিনতাইকারী চক্র অবস্থান নেয়।
বিশ^বিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চক্রগুলো সজাগ থাকে। যার ফলে সুযোগ পেলেই তারা ছিনতাইসহ শ্লীলতাহানি করে। তাছাড়া একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেই চলছে। কিন্তু প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’
রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। যারা জড়িত তাদের সুষ্ট তদন্ত করে তাদের বিচার ব্যবস্থা করা হয়না। বিশ^বিদ্যালয়ে যে যৌন হয়রানির সেল আছে সেটার বাস্তবায়ন নেই। তাই এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে। ’
নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। ওই চালককে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে নগরীর পুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি অনাকাঙ্খিত যে ঘটনা গুলো ঘটেছে এ জন্য আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশা করি আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবেনা’।
বিশ^বিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা জানান, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রী আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে খোঁজ নিতে বলেছি। এবং পুলিশকে অবহিত করেছি অভিযুক্ত ওই চালককে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য। তাছাড়া বিশ^বিদ্যালয় প্রবেশ পথ দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ না করুক সেটা আমরা চাই। তবে বিশ^বিদ্যালয়ের মত জায়গায় এটা অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠেনা। নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি।’
রাবিতে নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিনিয়ত বাড়ছে যৌন হয়রানি, ছিনতাই, চুরিসহ নানা ঘটনা। বিশেষ করে বহিরাগতের দ্বারা বারবার এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গত...





