খালি গায়ে ঘুরতে দেখে থানায় নিয়ে আসে স্থানীয় লোকজন। শুরু করেন তার পরিবারের সন্ধান পাওয়ার নানা কৌশল। খালি-গায়ে না রেখে তার গায়ে তুলে দেন নতুন গেঞ্জি। শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম। অবশেষে তার প্রচেষ্টায় ওই শিশুটি বুধবার এক বছর পর ফিরে পেল তার পরিবারকে। ওই শিশুটির নাম, শাওন (১৭)। তার পিতার নাম, গণি। বাড়ী চুয়াডাঙ্গা সদর থানার বোয়ালমারী গ্রামে।

শাওনের বাবা গণি জানান, এক বছর পুর্বে তার ছেলে শাওন হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়। তাকে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজি করেও না পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থানায় জিডি করেন। থানার ওসির তৎপরতার কারণে বুধবার ছেলেকে ফিরে পেলাম।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম জানান, সোমবার রাতে উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বেরুলী বাজার এলাকা হতে কতিপয় ব্যক্তি প্রতিবন্ধি শিশুটিকে পেয়ে খালি গায়ে থানায় নিয়ে আসে। শিশুটির গায়ের রং স্যামলা, মুখমন্ডল গোলাকার, আনুমানিক উচ্চতা ৪ ফুট। শিশুটি কথা বলতে পারেনা। শুধু আববা ও মামমা বলতে পারে। তাকে নতুন পোষাক কিনে দেন। তার স্বজনদের সন্ধান করার পর তার অভিভাবকদের হাতে বুধবার দুপুরে তুলে দেওয়া হয়। 

এদিকে বুধবার সকালে আরেকটি শিশুকে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগমের নিকট তুলে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। তাকে নতুন পোশা কিনে দিয়ে ডিউটি অফিসারের রুমে বসিয়ে রেখেছে। এখন তার পরিবারের সন্ধান করা হচ্ছে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম জানান, দুইটি শিশু পাওয়ার পর অনেক চেষ্টায় তাদের পরিবারের নিকট তুলে দিতে পেরেছি। বুধবার সকালে বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের আমতলা এলাকায় একটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধি শিশুকে পেয়ে স্থানীয় লোকজন থানায় দিয়েছে। সে তার নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারে না। নোংরা পোশাক থাকার কারণে তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে গোসল করিয়ে বাজার থেকে পোশাক কিনে তাকে পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।  তার স্বজনদের সন্ধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।