ফরিদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আজাদ খাঁ (৪৫) মৃত্যুর ব্যাপারে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ মামলার বাদি নিহত আজাদ খাঁর স্ত্রী। তবে আজাদের স্ত্রী বলছে, তিনি কোন হত্যা মামলা দায়ের করেননি। মামলায় কি লেখা রয়েছে তাও তিনি জানেন না। গভীর রাতে পুলিশের পীড়াপীড়িতে একটি কম্পিউটারে টাইপ করা কাগজে স্বাক্ষর দেই। সেটিই মামলার এজাহার হিসেবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম বলেন, নিহত আজাদ খাঁর স্ত্রী রিভা বেগম বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি লিখেছেন, গত পরশু তাঁর স্বামী বাড়ি হতে বের হয়ে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। এরপর গত সোমবার সকালে তার লাশ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে শত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি করে তাকে হত্যা করেছে।
আজাদের লাশ উদ্ধারের সময় তার নিকট থেকে ৯৮টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার হয় বলে পুলিশ জানিয়েছিলো। তবে এব্যাপারে মাদক সংক্রান্ত কোন মামলা হয়নি। যার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে সে নিজেই মৃত, এজন্য পুলিশ এ সংক্রান্ত মামলা করেনি বলে ওসি নাসিম জানান।
নিহত আজাদ খাঁর পরিবারের সদস্যরা জানায়, তারা থানায় কোন হত্যা মামলা দায়ের করেনি। নিহত আজাদের জামাতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ মৃত্যুর ব্যাপারে আমাদের কাউকে সন্দেহ হয়নি। আমরা মামলা করবো কেন। তাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সে কথাইতো কেউ স্বীকার করেনি। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা থেকে কর্মকর্তাসহ তিন পুলিশ আজাদের দক্ষিণ টেপাখোলাস্থ বাড়িতে আসেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহতের মেয়ে রাত্রী আক্তার বলেন, পুলিশ একটি কাগজে কিছু লেখা টাইপ করে নিয়ে আসেন এবং ওই কাগজে মাকে স্বাক্ষর দিতে বলেন। তবে মা মামলা করবেন না বলে জানালে পুলিশ বলেন, এটা একটি নিয়ম। এজন্য এ কাগজে সই দিতে হবে। তারপরও মা স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করেন। পরে পুলিশের পীড়াপিড়িতে মা আগেই টাইপ করা ওই কাগজের দুই জায়গায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
এর আগে আজাদের পরিবার থেকে জানানো হয়, গত একমাস যাবত আজাদ বাড়ির বাইরে ছিলেন। এর মধ্যে একবার কোতয়ালী থানা পুলিশ আজাদের বাড়ি তল্লাশী করে। গত শনিবার রাত তিনটার দিকে শহরতলীর গজারিয়ায় শহীদ নামে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ মোটর সাইকেলে করে শহীদ ও আজাদকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ভাজনডাঙ্গা এলাকায় এসে শহীদকে ছেড়ে দেয়। এর তিনদিন পর আজাদের লাশ উদ্ধার হয়।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি এএফএম নাসিম এ ব্যাপারে সরাসরি কোন মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে, গত সোমবার রাতে ময়না তদন্ত শেষে শহরের কমলাপুরের মাইট্যা গোরস্থানে নিহত আজাদের লাশ দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের ঢাকা-বরিশাল বাইপাস থেকে তুলাগ্রাম আশ্রায়ন প্রকল্পগামী আঞ্চলিক সড়কের পাশে থেকে আজাদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।





