টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গরাসিন এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মা ও তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মা হচ্ছেন পার্শ্ববর্তী নামদার কুমুল্লী গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহীন মিয়ার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার (২৩) ও তার তিন বছরের শিশুপুত্র রাহাত। এছাড়া টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও মির্জাপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ আরো চারজন নিহত হয়েছেন।
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চত করে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল জব্বার জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে বৃষ্টি আক্তার গরাসিন গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে দেড় বছরের ছেলে রাহাতকে নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে খবর পাওয়া যায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তারা মারা গেছেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করে বাবার বাড়ি নিয়ে যান। বৃষ্টি আক্তারের মানসিক সমস্যা ছিল বলে প্রতিবেশিরা জানান। মেম্বার আব্দুল জব্বার বলেন, নিহত হওয়ার খবর শুনে বৃষ্টির স্বামীর বাড়ির লোক এসে দুই পরিবার মিলে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করে।
টাঙ্গাইল রেল স্টেশন মাস্টার জালাল উদ্দিন জানান, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
তবে স্থানীয় একটি সূত্রে দাবি, স্বামীর বাড়ির লোকজনের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহের জের ধরে বৃষ্টি আক্তার তার শিশুপুত্রকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার চরভাবলায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনটি ট্রাকের সংর্ঘষে চালকসহ দুইজন নিহত হন। নিহতরা হলেন পাবনার পাচুরিয়া গ্রামের রবিউলের ছেলে ট্রাক চালক আশিকুর (২২) এবং নাটারের পুজিপুকুর গ্রামের আয়ফুলের ছেলে তৈয়বুর রহমান (৫৫)। এ ঘটনায় অন্তত আরো ৩ জন আহত হন। তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কের দু’পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই নূরে আলম বিষটি নিশ্চিত করেন।
একই দিন বিকেলে কালিহাতীর এলেঙ্গায় ট্রাকের চাপায় বিশাল (১২) নামে এক বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। সে কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের ছেলে। সে ফটিকজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র।
অন্যদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাসচাপায় সাগর (১০) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার কুর্নি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাগর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারুটিয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে।