বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ এলাকায় আমি আসার ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এ প্রথম আমি সংবাদ সম্মেলন করছি। আমার বাড়ির দরজায় ও বাড়ির আশপাশে অসংখ্য পুলিশের আনাগোনা ও পুলিশ বসে থাকতে দেখা যায়। আমার সাথে দেখা করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদেরকে আসতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের সাধারণ সম্পাদকের এলাকায়, কিভাবে গণতন্ত্র চর্চা করতে হচ্ছে তা দেশবাসীর জানা দরকার। তার কাছে মানুষ উদারতা আশা করে। এখানে যে অবস্থা বিরাজ করছে সারা বাংলাদেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী আবদুল হাই সেলিম, বসুরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী, বসুরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন চৌধুরী, কবিরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, মাহমুদুর রহমান রিপন, বেলায়েত হোসেন খোকন, সৌরভ হোসেন কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
বিএনপির সিনিয়র এ নেতা আরো বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা। আমি এলাকায় আসছিলাম ঈদ পর্যন্ত বাড়িতে থাকব। এলাকার মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করব। এলাকায় গিয়ে সমাবেশ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করব, তাও পারছি না। এমনকি ইফতার পর্যন্তও করতে পারছি না। গত রোববার রামপুর ইউনিয়নে ইফতারের আয়োজন করা হয় দলীয়ভাবে। আমার উপস্থিতিতে হওয়ার কথা ছিল। আমি যাওয়ার আগে সকাল বেলায় পুলিশ সামিয়ানা নামিয়ে ফেলে। রান্না করার চুলা ভেঙে ফেলে এবং সব আয়োজন বন্ধ করে দেয়। তারপরও আমি বিকেলে দেখতে গিয়েছিলাম।

ব্যারিস্টার মওদুদ আরো বলেন, গতকাল সকালে কদমতলায় আমার যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে স্কুলের ভেতর তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করার জন্য। রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আমার এপিএসকে মোবাইল ফোনে বলেন, বাহিরে কোন অনুষ্ঠান না করার জন্য। তবে ওনার বাড়িতে তিনি অনুষ্ঠান করতে পারবেন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি আমার বাড়ির আশপাশে পুলিশ বসা। তিনি আরো বলেন, এটা একটি জিনিস প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগের যে বেহাল দশা। তাদের জনপ্রিয়তা নেই। তাদের যদি সামান্য জনপ্রিয়তা থাকত, তাহলে এ আচরণ করত না। আমি এ এলাকার পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলাম। আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভয় পায়। এ জন্য এ অবিচার চালিয়ে যাচ্ছে। মওদুদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, পদ পেলে বড় হয় এটি ঠিক নয়। কিন্তু তিনি যে আচরণ করছেন তাতে বলা যায় দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ তার শারীরিক অবস্থা নিয়েও সরকার নাটক করছে। কেউ বলছে রোজা রাখার কারণে, তবে তারা স্বীকার করছে তিনি অসুস্থ। নেত্রীকে ভুয়া মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তাকে সুচিকিৎসা দিতে সরকার বিলম্ব করছে। তবে কারো শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিলম্ব করা যায় না। তিনি দেশের একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন।