ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় গোটা দেশ। পিছিয়ে নেই রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলাও। ভিনদেশীয়দের প্রেমে পড়েছে তরুণ থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষ। প্রিয় দলের সমর্থনে গোটা দেশের ন্যায় বালিয়াকান্দির বাজারসহ আনাচে-কানাচে ছেয়ে গেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায়।

যদিও ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশীরা ক্রিকেট পাগল জাতি। কিন্তু প্রতি চার বছর পর যখন বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয় তখন খাওয়া-নাওয়া ভুলে অধিকাংশ মানুষ মেতে উঠে ফুটবল উন্মাদনায়। অথচ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র অধিভুক্ত বিশ্বের ২০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবলের অবস্থান ১৯৭তম।

বালিয়াকান্দি উপজেলার হাট-বাজার ও বাসা বাড়ীতে দেখা গেছে ফুটবলের উম্মাদনায় ক্রীড়া প্রেমীরা তাদের পছন্দের দেশের পতাকা বাড়ির ছাদে, আঙিনায়, দোকানে, রাস্তার পাশে, গাছের ডালেসহ বিভিন্ন জায়গায় উত্তোলন করেছেন। সমর্থকরা বিদেশী পতাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করছেন। সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও তার কোন তোয়াক্কাই করছেন না কেউ।

জাতীয় পতাকা অবমাননা হলেও সচেতনতা কিংবা ব্যবস্থা গ্রহণের কোন দৃশ্য দেখা যায়নি।
বাংলাদেশে যতগুলো জনপ্রিয় খেলা আছে তার মধ্যে ফুটবল হল অন্যতম। দেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে শহর অঞ্চলে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পাগলামিটা অনেক দিন ধরেই চলছে। সেই সাথে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালিসহ প্রিয় দেশের পতাকা টানানোও একটা সংষ্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। কেউ বলছে বিদেশী পতাকা ওড়ানোর ফলে জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করা হচ্ছে আবার কেউবা বলছে আবেগের বশে মানুষ এমন করতেই পারে। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নিয়ম-নীতি সঠিক ভাবে জানা থাকলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না বলে দাবি বিশিষ্টজনদের।

জানাগেছে, পৃথক পৃথক স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্যে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সেগুলো হল ভবনের জন্য পতাকা- ১০ ফুট বাই ৬ ফুট, ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং ২.৫ ফুট বাই ১.৫ ফুট। এখানে উল্লেখ্য যে, পতাকার আকার ভবনের আকার অনুযায়ী হবে। সরকার প্রয়োজনে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্যেও পরিমাপ বজায় রেখে বৃহদাকার পতাকা প্রদর্শনের জন্য অনুমতি দিতে পারেন। মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো ১৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি এবং ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি। আর্ন্তজাতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্মেলনের জন্য টেবিল পতাকার আকার ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মতিন ফেরদৌস মনে করেন, জাতীয় পতাকার অবমাননাকর ব্যবহার একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে এদেশের লাল সবুজের পতাকা অর্জন করেছি। এক্ষেত্রে দেশের জাতীয় পতাকা অবমাননাকারীদের সচেতনতার পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

রাজবাড়ী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সদস্য আব্দুল খালেক মন্ডল বলেন, বাংলাদেশের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা শুধু মাত্র একটি কাপড় নয়। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক আমাদের প্রিয় লাল সবুজের পতাকা। এ পতাকা অবমাননার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির বিধান করতে হবে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে যা হচ্ছে এটি আমাদের কাম্য নয়। এ পতাকা একটি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক, দেশ ও জাতির কাছে একটি পবিত্র আমানত। যে কেউ যে কোন দল কে সমর্থন করতেই পারে তাই বলে আমরা আমাদের নিজস্ব সত্তা যেন হারিয়ে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।