দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীগামী কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভীড় শুরু হয়েছে। লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীর চাপ বেশি।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কর্মজীবি মানুষ আবারও রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহি বাসের লাইন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।
বুধবার দুপুরের পর থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো নদী পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় দৌলতদিয়া ঘাটে আসার পর আটকা পড়েছে। প্রচন্ড রোদ ও গরমে এসব বাসের যাত্রীদের অনেক কষ্টও সহ্য করতে হচ্ছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ঈদের ছুটির পর গত ২দিন দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের কোন চাপ ছিল না। তবে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই গাড়ী ও যাত্রীর প্রচন্ড চাপ বাড়তে থাকে।বুধবার বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের লাইন প্রায় তিন শতাধিক যাত্রীবাহি ও শতাধিক ছোট গাড়ীর জট প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়ায়।
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসা মানুষ অফিস আদালত খোলার কারণে পর গত সোমবার আবারও ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীতে। এসব বাসে করে তারা ঢাকায় যাচ্ছেন।
যাত্রী চাপ বেশি থাকায় লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বোঝাই হয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ঘাট এলাকায় কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বিষয়টি 'সহনীয় লোড' বলছেন।লঞ্চে ভীড় বেশি থাকায় যাত্রী নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার সদস্যদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের সকল জেলা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনের সাথে সাথে এ রুটের ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোটেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতদিয়ার নদীতে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগ। বিআইডব্লিউটিএর দৌলতদিয়া নৌ বন্দরের সহকারি পরিচালক রেজাউল বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল যাত্রী চাপ কম থাকায় বুধবার লঞ্চে যাত্রী চাপ বেশি। যাত্রী ধারণক্ষমতা দেখে সহনীয় পর্যায়ে লোড করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় এবং ওভারলোড ঠেকাতে পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার যৌথভাবে কাজ করছে। কোন অবস্থাতেই ওভারলোড ও বাড়তি ভাড়া আদায় সহ্য করা হবে না।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারি ম্যানেজার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্্েরাতের গতি বেড়ে যাওয়ায় ফেরি ও লঞ্চ পারপারারে সময় বেশি লাগেেছ। লঞ্চে ও ফেরিতে যাত্রী চাপ থাকলেও বুধবার সকাল থেকে যাত্রীবাহি বাস ও প্রাইভেট কারের অতিরিক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট রয়েছে। তবে এ রকম যানবাহনের চাপ আরো ২/৩দিন থাকবে।