প্রচণ্ড ভিড়ে তড়িঘড়ি করে লঞ্চে উঠতে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সের যুবক ফয়সাল। কিন্তু সাঁতারও জানেন না তিনি। আর লঞ্চঘাটেও তখন প্রচণ্ড ভিড়। কিন্তু না। হায়াত থাকলে মৃত্যু তো আসার কথা নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান ফয়সাল।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুরে শিবচরের কাঠালবাড়ি লঞ্চ ঘাটে।

এর আগে গত ২৩ মে রাতে লঞ্চ ঘাটের পল্টুন থেকে পদ্মায় পড়ে শহিদুল ইসলাম নামের এক লঞ্চযাত্রী নিখোঁজ হয়েছিলেন। পর দিন ২৪ মে নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

সরেজমিনে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে কাঠালবাড়ি ঘাটে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ঢল নামে। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে এ দিন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল যাত্রীতে। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল লঞ্চ ঘাটে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল থেকেই লঞ্চ ঘাটে অবস্থান নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ, বিআইডব্লিউটিএ'র উপ পরিচালক কবির হোসেনের নেতৃত্বে বিআইডব্লিউটি-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আনসার সদস্যরা। দুপুরে লঞ্চ ঘাটে প্রচণ্ড ভিড়ের মাঝে মোঃ ফয়সাল নামের এক যাত্রী একটি লঞ্চে উঠতে গেলে কাঁধে ঝোলানো ব্যাগসহ পদ্মা নদীতে পড়ে যান। তার চিৎকারে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এগিয়ে আসেন। এক দিকে ফয়সাল সাঁতার জানেন না অন্য দিকে নদী থেকে পন্টুনে উঠানোর কোনো সরঞ্জাম না থাকায় প্রশাসনের লোকসহ সবাই শঙ্কিত হয়ে উঠে।

তবে সবারই উদ্যোগ চলতে থাকে। এরই একপর্যায়ে পরে একটি বাঁশের সহযোগিতায় হাত টেনে উঠানো হয় তাকে। ব্যস্ততম একটি লঞ্চ ঘাটে মোটা রশিসহ দুর্ঘটনাবশত নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উত্তোলনের জন্য জরুরি সরঞ্জাম না থাকায় প্রকাশ করেন ইউএনও ও বিআইডব্লিউটি'র উপ পরিচালক। পরে ফয়সালকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে শিমুলিয়াগামী লঞ্চে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ফয়সাল বলেন, তাড়াহুড়া করে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম। সাঁতার কাটতে পারি না, তাই খুব ভয় পেয়েছিলাম। তবে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপে এ দফায় প্রাণে বেঁচে গেছি।

ফয়সাল ঈদ উপলক্ষে শিবচরে তার আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফয়সালের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। তার বাবার নাম মোঃ বোরহান উদ্দিন।

পড়ুন :
ফরিদপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২
ফরিদপুর সংবাদদাতা
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী তুহিন পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন । এসময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। তাদের ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদি নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। লাশ ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে ।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাষ্টার সাইফুজ্জামান জানান, আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে