৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে আটক করেছে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শিশুটিকে আটক করা হয়।

অন্যদিকে আটক শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে যে, প্রতিবেশীর সাথে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায় যে, হাফেজা নামে ৬ বছরের মেয়েটি স্থানীয় কান্দাকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী।  ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মেয়েটির পিতা হাফিজুর শেখ বোয়ালমারী থানায়  শিশু আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

আর আটককৃত আব্বাস শেখ নামের দশ বছরের শিশুটি বোয়ালমারীর ময়না ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের ওলিয়ার শেখের ছেলে এবং বোয়ালমারী সদরের দারুস সুন্নাহ হেফজ মাদ্রাসার ছাত্র।

এদিকে আব্বাসের বয়স নিয়ে ও চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। আব্বাসের বয়স মাত্র ১০ বছর দাবি করে তার পিতা ওলিয়ার শেখ বলেন, ভিকটীম মেয়েটিসহ অন্য শিশুরা বাগানে খেলা করছিলো। এসময় গাছ থেকে থেতলে পড়ে গিয়ে মেয়েটি আহত হয় বলে জেনেছি। অন্যদিকে মামলায় আব্বাসের বয়স ১৬ বছর বলে উল্লেখ করেন বাদি পক্ষ।

ভিকটিম কন্যা শিশুটির ভাই শুকুর শেখ জানান, ৮ ভাই-বোনের মধ্যে হাফিজা ছোট। গত রোববার ১৭ জুন সন্ধার দিকে হাফিজা বাড়িতে এসে বেহুঁশ হয়ে পরে। পরে তাকে সেবা-শুশ্রুষা করা হলে সে জানায় যে, আব্বাস তার সাথে খারাপ কাজ করেছে। পরদিন বিকেলে হাফিজাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, জমির পানি গড়িয়ে পুকুরে আসা নিয়ে গত বছর রোযার সময় আমাদের সাথে ওই মেয়েটির পরিবারের ঝগড়া হয়। এছাড়া অনেক আগে থেকেই তাদের সাথে নানা বিষযে বিবাদ চলছিল। এর জের ধরেই মিথ্যা অভিযোগে আব্বাসের জীবন ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ওরা।

হাফিজার ভাই অবশ্য প্রথমে তাদের দুই পরিবারের মাঝে কোন বিরোধ ছিল না দাবি করেন। পরে ঝগড়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি তা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, দুই বাড়ির পথের উপর দিয়ে বৃষ্টির পানি গড়ানো নিয়ে ওলিয়ার শেখের পরিবারের বিরোধ বেঁধেছিলো। এরপর আমরা ওই পথে রাস্তার মাটি কেটে উঁচু করি। এতে নাকি আমরা ওদের ক্ষতি করেছি!

স্থানীয় ইউপি মেম্বার রাশেদ মোল্যাও দুই পরিবারের বিরোধের কথা জানিয়ে বলেন, শুনেছি ধর্ষনের ঘটনা মামলা হয়েছে। পুলিশ ছেলেটিকে আটক করেছে।
বোয়ালমারী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি এখনো চিকিৎসাধীন। বাদির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলেটিকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার আসল রহস্য জানা যাবে।