কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়ায় স্কুলছাত্র অপহরণ ও হত্যা মামলার দুই আসামি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন নাঈম ইসলাম (২৩) ও জোয়ার আলী (২৫)।

মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর ব্রিজের কাছে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করেছে।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, স্কুলছাত্র দেবদত্ত হত্যার প্রধান আসামি নাঈম ইসলামকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। নাঈমের স্বীকারোক্তিতে সোমবার বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেবদত্তের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার ভোরে নাঈমকে নিয়ে অন্য আসামিদের ধরতে উপজেলার চিথলিয়ার পাহাড়পুর ব্রিজের কাছে যায় পুলিশ। নাঈমের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে নাঈম ইসলাম ও জোয়ার আলী গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) লাল চাঁদ, এসআই এমদাদুল হক, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমীন, এএসআই সাইফুল ইসলাম ও তিনজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল ও দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত অপহরণকারী নাঈম ইসলাম ও জোয়ার আলী মিরপুর উপজেলার চিথলিয়ার বাসিন্দা।

আরো পড়ুন: কুষ্টিয়ায় অপহৃত স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র দেব দত্তের (৯) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুর আড়াইটায় মিরপুর উপজেলার চিথলিয়ার মৃত সুখচাদের ছেলে জহুরুলের বাড়ির পরিত্যাক্ত সেপটি ট্যাংকের তলদেশ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

এসময় কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন ও নুরে আলম সিদ্দিকী নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদর উপস্থিতিতে লাশ উদ্ধার করা হয়। বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশের পোশাক দেখে নিহত দেব দত্তের লাশ সনাক্ত করেন পিতা পবিত্র দত্ত। এরপর লাশটি ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পিস্তল বলেন, কোমলমতি এই শিশুটির পিতা অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। তিনি একজন স্কুল শিক্ষক। তার সাথে ব্যক্তিগত কারো শত্রুতা আছে বলে মনে হয়না। এই বাচ্চাটিকে উদ্ধারের দাবিতে কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের মানুষ ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ জানান, গত (০৮ জুন) শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেব প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুদুর যাওয়ার পর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের রাস্তা থেকে মোটরসাইকেল আরোহী দুবৃত্তরা দেবকে তুলে নিয়ে যায়। যারাই জড়িত থাক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিহত শিশুর পরিবারের দাবি, পুলিশ আন্তরিক হলে দেবকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। শিশু দেবের লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও তাদের স্বজনেরা খুনির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানায়।