শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ গ্রামের একটি নির্মানাধিন বাড়ির সেফটি ট্যাংকের ভিতর থেকে সোমবার রাতে ইভা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ইভার পরিবারের অভিযোগ তার স্বামী দেলোয়ার ছৈয়াল তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকের ভিতর রেখে পালিয়ে গেছে।
ঘটনার পর থেকে স্বামী দেলোয়ার পলাতক রয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নড়িয়া থানা পুলিশ ও নিহতের স্বজরা জানায়, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মন্নান শেখের মেয়ে ইভা আক্তার ছোট সময় থেকেই একই উপজেলার চাকধ এলাকার নানি মনোয়ারা বেগমের সাথে বসবাস করে আসছিল। প্রায় দুই মাস পূর্বে চাকধ গ্রামের জব্বার ছৈয়ালের ছেলে দেলোয়ার ছৈয়াল প্রেমের সম্পর্ক করে ইভাকে বিয়ে করে। বিয়ের পরও ইভা নানি বাড়ীতেই বসবাস করে আসছে। গত সোমবার বিকালে ইভাকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে ফোন করে চাকধ গ্রামের ইভার নানুর বাড়ি থেকে ডেকে নেয় স্বামী দেলোয়ার ছৈয়াল। ঐ দিন রাত সারে ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী মোঃ আলী মোরলের বাড়ির একটি নির্মানাধিন ভবনের পাশে বিকট শব্দ শুনতে পায় ভবনের পাশের বাড়ির লোকজন। প্রথমে স্থানীয় লোকজন ভবনের পিছনে গিয়ে কিছু রক্ত পরে থাকতে দেখে রক্তের চিহ্ন ধরে সেফটি ট্যাংকের ভিতরে গিয়ে একটি লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় রাত ১২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ইভার নানি মনোয়ারা বেগম লাশ সনাক্ত করে। ঘটনার পর থেকে দেলোয়ার ছৈয়াল পলাতক রয়েছে। এই ঘটনায় নিহত ইভার পরিবার নড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নিহত ইভার নানি মনোয়ারা বেগম বলেন, ইভার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে চাকধ গ্রামের দেলোয়ার ছৈয়াল দুই মাস আগে ইভাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে মেয়েটিকে আমার বাড়িতে রেখে দেয়। সোমবার বিকালে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফোন করে ইভাকে নিয়ে যায়। রাতে একটি লাশ পাওয়া গেছে শুনে দেখতে গিয়ে দেখি আমার ইভার লাশ। দেলোয়ার আমার নাতনিতে হত্যা করেছে। আমি দেলোয়ারের বিচার চাই।
নড়িয়া থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম উদ্দিন বলেন, ইভা নামে এক গৃহ বধুর লাশ একটি সেফটি ট্যাংকের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জিঙ্গাসা বাদের জন্য দেলোয়ার ছৈয়ালের মা ছাহেরা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে।





