ফরিদপুরের গ্রাম আদালতগুলোতে গত বছরের জুলাই মাস হতে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ১০ মাসে মোট ১১শ’ ১৯টি মামলা নিস্পত্তি করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলার তুলনায় নিস্পত্তিকৃত এ মামলার শতকরা হার প্রায় ৮৪ ভাগ। এসময়ের মধ্যে বিবাদীদের অনুকূলে ক্ষতিপুরণ বাবদ ১১ লাখ ১১ হাজার ৩৩৬ টাকা আদায় করা হয়েছে। যদি প্রান্তিক পর্যায়ের দরিদ্র ও অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠির মাঝে গ্রাম আদালতের বার্তা সঠিকভাবে পৌছে দেয়া যায় তবে দেশের বিচারিক আদালতে অনিস্পত্তিকৃত মামলার হার অনেক কমে যাবে। কমবে মামলা জট। গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌছে দিতে হবে। এজন্য সঠিক প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
ফরিদপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এরাদুল হক (উপ সচিব) এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানিজয়া। অন্যান্যের মধ্যে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) কমিউনিকেশন এন্ড আউটরিচ স্পেশালিষ্ট অর্পনা ঘোষ, ডিষ্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামসুন্নাহার বেগম বক্তব্য দেন। ফরিদপুর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ৪০ জন গণমাধ্যমকর্মী এতে অংশ নেন। সাংবাদিকগণ গ্রাম আদালতের সুফল বাস্তবায়নে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ফরিদপুর জেলার ৩৫টি ইউনিয়নে বর্তমানে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১২টি, বোয়ালমারী উপজেলার ৫টি, সদরপুর উপজেলার ৬টি, ভাঙ্গা উপজেলার ৫টি, আলফাডাঙ্গার ৪টি ও চরভদ্রাসনের ৩টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের অবকাঠামোগত সুবিধাসহ এজলাস স্থাপন করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যমানের দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা গ্রাম আদালতে নিস্পত্তি হয়। এখানে কোন আইনজীবী নিয়োগ দিতে হয় না। অভিযোগকারীর তার পছন্দের ২জন প্রতিনিধি নিযুক্ত করে খুবই অল্প সময়ে বিরোধের নিস্পত্তি পান। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নয় বরং মামলায় ধার্য্যকৃত জরিমানার টাকা সরাসরি বাদিকে প্রদান করা হয়। এ আদালতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান প্রধান বিচারক। এছাড়া বাদির নিযুক্ত ২ জনসহ মোট ৫ জনকে নিয়ে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরমধ্যে বিচার কার্যক্রমে নিযুক্ত সকলের মতামতের ভিত্তিতে কোন রায় হলে তার বিপরীতে সংক্ষুব্ধ হলেও আপিল করা যায় না। তবে ৫ জনের কোন একজনও যদি রায়ের বিপরীতে মত দেন তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদালতে আপিল করতে পারেন। এক্ষেত্রে ফৌজদারী মামলা জুডিশিয়ারী আদালতে এবং দেওয়ানী মামলার আপিল সহকারী জজ আদালতে করা যাবে।
সভায় গ্রাম আদালতের সুবিধাভোগী হিসেবে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়ার লাল বড় ও আলিয়াবাদ ইউনিয়নের শেখ মোঃ আলী বক্তব্য দেন। তারা জানান, অল্প সময়ে তারা গ্রাম আদালতে মামলা করে প্রতিকার পেয়েছেন।





