বগুড়ার সান্তাহার গ্রামের রমজান আলী ও শরিফা খাতুন দম্পতির ৮ বছরের শিশু মো. আবদুর রহমান ওরফে শরিফুল ইসলাম দুই বছর আগে মায়ের সাথে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয় যায়। এরপর কেটে যায় দুই বছর। হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন মা শরিফা খাতুন।

এদিকে শিশু আব্দুর রহমান বাড়ির ঠিকানা বলতে না পারায় মায়ের কোলে ফিরতে পারেন নি। দীর্ঘ দিন নানা লাঞ্চনা-বঞ্চনার শিকার রহমান অবশেষে মানিকছড়িতে এসে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও পুলিশের সহযোগিতায় মায়ের দেখা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা-ছেলে।

মানিকছড়ি থানা পুলিশ ও আব্দুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে শিশু আব্দুর রহমানের মা শরিফা খাতুন পড়ালেখার জন্য বকাঝকা করলে রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। প্রথমে সে রেল স্ট্রেশনে গিয়ে ট্রেনে বগুড়ায় আসে। পরে আবার মা-বাবার কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠে ভূলবশত রাজশাহী চলে যায়। সেখানে গেলে জনৈক ব্যক্তি তাকে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে আব্দুর রহমান পিতা ও মাতা ও গ্রামের নাম বলতে পারলেও থানার নাম বলতে পারেনি। এতেই তার জীবনে বিপত্তি ঘটে। পরে জনৈক ব্যক্তি তাকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে। কিছুদিন পর শিশু রহমানকে তুলে দেওয়া হয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধিনস্থ শিশু কেন্দ্রে। সেখানে শিশু রহমানের ক্রমিক নং ৬২০। কিন্তু সেখানেও শিশু রহমান মানসিক ভাবে সুস্থ ছিল না। মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে সারাক্ষণ কান্না করত।

এদিকে শিশু রহমানকে বকাঝকা করার কারণে বাবা মো. রমজান আলী স্ত্রীর সাথে অভিমান করে গত দেড় বছর ধরে সেও স্ত্রীকে ফেলে নিরুদ্দেশ! ফলে শিশু রহমানের মা শরিফা খাতুন এর জীবনে নেমে আসে চরম বিপত্তি!

শিশু রহমান ঈদ উল ফিতরের ১ সপ্তাহ পর (২৩/২৪ জুন) রাতে কৌশলে শিশু কেন্দ্র থেকে পালিয়ে আবার পথ হারায়। এক পর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গত ২৬ জুন তাকে মানিকছড়ি বড়ডলু গ্রামে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। শিশু রহমান রাস্তার পাশে বসে কান্নাকাটি করলে লোকজন তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিতে এলাকার শিক্ষানুরাগী এম.ই. আজাদ চৌধুরী বাবুলের নিকট পরামর্শ চাইলে তিনি শিশুটি দেখতে ছুটে আসেন এবং মা-বাবা হারা শিশুর কান্না শুনে বিষয়টি মানিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদকে অবহিত করেন।

পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে শিশুটিকে থানায় এনে আদর করে। তার কাছে গ্রামের ঠিকানা ও মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলে শুধু মা-বাবা ও গ্রামের নাম সান্তাহার ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে না।

মানিকছড়ি থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে সামনে এগুতে থাকে এবং এক পর্যায়ে বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার সান্তাহার গ্রাম শনাক্ত করে। থানা পুলিশ শিশুটির বাড়ি খুঁজে বের করে। পরে আবদুর রহমানের মা শরিফা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করে।

দীর্ঘ দুই বছর পর হারানো ছেলে মো. আবদুর রহমান ওরফে শরিফুল ইসলাম (১০)কে ফিরে পেয়ে মা শরিফা খাতুন স্বামীর অবহেলা,নির্যাতন ভুলে যান।

শুক্রবার ১০ টায় মানিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদের অফিসে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় শরিফা খাতুনের সাথে। শিশুটিকে ফিরে পেয়ে মা আনন্দে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং যারা পুত্রকে বুকে ফিরে পেতে সহযোগিতা করেছেন তাঁদেরকে অভিনন্দন জানান।

শুক্রবারই আব্দুর রহমানকে নিয়ে মা শরিফা খাতুন বগুড়ায় ফিরে যাবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।