পাবনার বেড়া উপজেলায় কোন বালু মহল নেই। অথচ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যমুনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে। এতে যমুনা নদীর ডান দিকের প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

বেড়া পাউবো’র উপ-বিভাগ-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ,কে, শহীদুল আলম গত ২২ মে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপর এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও স্থানীয় প্রশাসন বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানিয়েছে।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বেড়া উপজেলার পৌর এলাকার পায়না গ্রামের মোঃ ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে মোঃ সাজেদুল ইসলাম কিরন, মোহনগঞ্জ গ্রামের হাজী মোঃ নবী সরদারের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, একই গ্রামের দুদু প্রামানিকের ছেলে মোঃ আব্দুর রশিদ, খাদেম সরদারের ছেলে মোঃ ইনদাহ এবং মৃত- শিস মন্ডলের ছেলে মোঃ হারান মন্ডল ৫-৬টি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহাজ্যে যমুনা নদীর পেঁচাকোলা ও মোহনগঞ্জ পয়েন্টে তীর সংরক্ষন বাঁধের সন্নিকট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে বাঁধটি ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে এবং তীর সংরক্ষন বাঁধের যে কোন অংশ যে কোন সময় ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় এফআরইআরএমআইপি প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাটপাঁচিল থেকে আহম্মদপুর পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে।

নদী থেকে বালু তুলে তা নির্মাণাধীন বণ্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ কাম সড়কের ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করছে। সেই বালু দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাঁধ কাম সড়ক।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ার কৈটোলা নির্মাণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব জানান, পরীক্ষা মূলকভাবে নতুন প্রযুক্তি প্রযোগ করে কম খরচে বালি দিয়ে বণ্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ কাম সড়ক নির্মান করা হচ্ছে। এই বালির বাঁধ কাম সড়কের দুই পাশের ঢালু (স্লোপ) এবং উপরের অংশে এক থেকে দেড় ফুট পুরো করে এটেঁল মাটি দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হবে। বৃষ্টির পানি, নদীর স্রোতে এবং ঢেউয়ের আঘাতে যাতে মাটি কেটে না যায় সে জন্য স্লোপের দু’পাশের ছোন ও বিন্না ঘাস লাগানো হবে। এ প্রকল্পে সফলতা পাওয়া গেলে সারা দেশে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর বন্যা শেষে পেঁচাকোলায় যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যায়ে ধ্বসে যাওয়া অংশের সংস্কার কাজ শেষ করেছে।

জোট সরকারের সময় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে বেড়া মোহনগঞ্জ থেকে কৈটোলা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে (ডানতীর) প্রতিরক্ষ বাঁধ তৈরি করা হয়। প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মানের ফলে মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত যমুনা নদীর ভাঙ্গন বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ এ প্রতিনিধিকে বলেন, যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরক্ষ বাঁধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর যে কোনো পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন প্রতিরক্ষা বাঁধের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। নদীর যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তার চার পাশের এলাকা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।