চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় মোস্তফা হাকিম ডিগ্রি কলেজের ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্র জিয়াউদ্দিন বাবলু (২০) হত্যার ছয় মাস পরেও কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর থেকে বারবার আসামিদের নাম বলার পরও পুলিশ সুনির্দ্ধিষ্ট খুনীদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফলে হতাশায় ভুগছে অসহায় মা-বাবাসহ স্বজনরা। আজ রবিবার বেলা দুপুরে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন নিহত বাবলুর বাবা মোঃ আলাউদ্দিন।
তিনি জানান, কুমিরার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ লেদুর মেয়ে তামান্নার সাথে তার পুত্র জিয়া উদ্দিন বাবলুর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এ সম্পর্ক মেনে নিতে না পারায় তামান্নার ভাই তারেক সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারী রাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনার পর তামান্না নিজে ফোন করে জানায় যে তার ভাই তারেক লোকজন নিয়ে বাবলুকে হত্যা করেছে। এছাড়া ঘটনার আগেও তারেক বারবার বাবলুকে হত্যার হুমকি দেয়। এসব কারণ ও তথ্য প্রমাণ পেয়ে বাবলুর লাশ উদ্ধারের পর তিনি পুলিশের কাছে তারেক, তার বাবা নুর মোহাম্মদ লেদু, মা নার্গিস আক্তার, চাচাত ভাই জিয়াউদ্দিন, তামান্নাদের সুনির্দ্বিষ্ট আসামি করে মামলা দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ এজাহার থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে মামলা গ্রহন করে। ঘটনাটির তদন্ত করেন সীতাকুণ্ড থানার এস.আই মোঃ ইকবাল হোসেন।
আলাউদ্দিনের অভিযোগ, ঘটনার পর এক সপ্তাহ বাবলু নানার বাড়ি মাদামবিবিরহাটে অবস্থান করলেও পুলিশ তাকে ও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। এরপর তিনি চট্টগ্রামের ডিআইজি মহোদয়সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের স্মরণাপন্ন হলে তার চাপে জিয়াউদ্দিন ও তামান্নাকে গ্রেপ্তার করলেও তাদেরকে সন্দেহজনক আসামি উল্লেখ করে চালান দেওয়ায় তারা মুক্তি পেয়ে যায়। এতে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে পুত্র হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবলুর বাবা, মা হোসনে আরা লায়লা, মামী রেহানা বেগম, মামা জাফর, নাছির, সুমন, ভগ্নিপতি মোঃ আরিফসহ উপস্থিত সকলে। কাঁদতে কাঁদতে বাবলুর বাবা আলাউদ্দিন বলেন, আমরা গরীব অসহায় হওয়ায় অর্থ বিত্ত খরচ করতে পারছি না। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচারও পাচ্ছি না। তাই আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আমরাও ধারণা করছি এ ঘটনার মূল হোতা প্রেমিকা তামান্নার ভাই তারেক। কিন্তু ঘটনার পর তার মোবাইল এর আইএমও নম্বর দিয়ে খুঁজেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে বাবলুর বাবা আমাদের উপর আস্তা হারিয়ে এসব অভিযোগ করেছে। মামলাও পিবিআইতে নিয়ে যেতে চাইছেন। তবুও আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোঃ ইফতেখার হাসান বলেন, মামলার বাদীরা এখন পিবিআই এর মাধ্যমে তদন্ত করাচ্ছে। তাই এখন এটি পিবিআইয়ের অধীনে।





