পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়র ধসের পৃথক দুটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছে। লামা উপজেলার সরই ইউনয়িনের কালাইয়ার পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, মোহাম্মদ হানিফ (৩৫), তার স্ত্রী ও এক শিশু কন্যা। স্ত্রী ও কন্যার নাম এখনো জানা যায়নি।
মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে এঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ কাশেম নয়া দিগন্তের কাছে ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে শহরের কালাঘাটা এলাকার বড়–য়ার টেক নামক স্থানে ঘরের উপর পাহাড় ধসে পরলে প্রতিমা রাণী দে (৪০) নামের একজন নিহত হয়। পুলিশ ও দমকল বাহিনী সূত্র জানায়, প্রবল বর্ষণের সময়ে প্রতিমা রাণী একা বাসায় ছিল। এ সময় তার বাসার পেছনের পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে ঘরটিসহ প্রতিমা রাণী চাপা পড়ে। পরে তার লাশ মাটি সরিয়ে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তরা এলাকাটি পরিদর্শন করেন।
উল্যেখ্য, সোমবার মধ্যরাত থেকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় আরো পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টার প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার সাংঙ্গু মাতামুহুনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহর ও রুমা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবান রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়ার কাছে সকালে সড়কের উপর পাহাড় ধসে পরলে রুমা উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে বান্দরবান রাঙ্গামাটি সড়কের পুলপাড়া নামক স্থানে বেইলী ব্রিজ পানিতে তালিয়ে যাওয়ায় এই সড়কে যানচলাচল সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান কেরানীরহাট সড়কে বাজালিয়া এলাকায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানচলাচল ব্যহত হচ্ছে। এদিকে পাহাড় ধসে প্রাণহানী ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ হতে শহর ও উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন জানান, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশাসনের পক্ষ হতে সতর্কতামূলক সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।





