কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারের পানি উঠে নামতে না পারায় উপকুলীয় বরগুনা শহরে বেশ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যার কারণে এখন পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শহরের মূল সড়কে ফুটপাত দখলের কারণেই এ জলাবদ্ধতা।

জানা গেছে, অবিরাম বর্ষণ ও অমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে জেলার পায়রা ও বিষখালী নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকুলীয় বরগুনা পৌর শহরে হাটু পানি উঠে শহরের সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ফলে পৌর শহরের নয়টি ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলের মানুষের ঘর, সড়ক, ডোবা ও আশপাশের খালি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের আমতলা সড়ক, কলেজ রোড, চরকলোনী, ঢলূয়া, ফুল ঢলূয়া আবাসন, বাশবুনিয়া, পাজরাভাঙ্গা, কালির তবক, উত্তর হেউলিবুনয়া, হেউলিবুনিয়া, পার্বতি, ক্রোক, খাজুর তলা , কলাতলা পাটাকাঠা সড়ক ও বাড়ীঘরের আঙ্গিনায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ এলাকার জনগণেরা বিশেষ করে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে সবচেয়ে বেশি।

শহরের কলেজ রোডের সেতু আক্তার বলেন, আমাদের এ সড়কটির ড্রেনেজ ব্যাবস্থা অপরিকল্পিতভাবে তৈরী করায় বর্ষার পানি নেমে যেতে পারছেনা এ কারণে জলাবদ্ধতা। গত দুদিন ধরে প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম করতে সড়কের জলাবদ্ধায় বাহিরে যেতে পারছিনা।

বাশবুনিয়ার আবু বক্কর বলেন, পৌরখালের দু’পাশ ভরাট করে দোকান ও বসতি তৈরী করায় বৃষ্টির পানি নেমে যেতে পারছে না, ফলে আমাদের এ এলাকায় বেশ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

বালিয়াতলী গ্রামের বাকী বিল্লাহ বলেন, বয়াতি বাড়ীর পাশ দিয়ে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে এলাকা তলিয়ে গেছে। কৃষকরা আমন ধানের বীজতল তৈরি করতে পারছে না।

বরগুনা পানি উন্নয়র বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান নয়াদিগন্তকে বলেন, অবিরাম বর্ষণ ও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আর এ কারণেই জলাবদ্ধতা।

এবিষয়ে বরগুনা পৌর মেয়র শাহাদাত হোসেন নয়াদিগন্তকে বলেন, শহরের বেশ কয়েকটি সড়কে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে ইতোমধ্যেই ড্রেনেজ সচলের কাজ চলছে। পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে খুব দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।