ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় নতুন করে আবারো পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’দিনে উপজেলার বাইল্যা ডাঙ্গী ও ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৮টি বসতবাড়ি, ২০ বিঘা ফসলী জমি ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দু’ শতাধিক মূল্যবান গাছপালা।

প্রথম দফা ভাঙনের পর গত দুই সপ্তাহ স্থির থাকার পর পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে নতুন করে এসব এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

নতুন করে ভাঙনের শিকার হয়েছেন, বালিয়া ডাঙ্গীর রাজ্জাক মোল্যা, হানিফ মোল্যা, ইসহাক মোল্লা, সিদ্দিক মোল্যা, জয়নাল মোল্যা, মুনসর মোল্যা, আলমগীর সিকদার ও আলামীন সিকদারের পরিবার। নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এদের কেউ স্বজনদের নিকট কেউবা সরকারি রাস্তার পাশে বা বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র ৩ মিটার দূরে চরম ঝুঁকিতে থাকা ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাইল্যাডাঙ্গী গ্রামে একটি জামে মসজিদ যেকোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী।

পাশাপাশি এমপিডাঙ্গী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোল্যাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবনির্মীত একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, কয়েকটি মসজিদ, পাকা সড়ক ও বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে।

নদী ভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার ও উপজেলা চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিন সরেজমিনে যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ জানান, ইতিমধ্যে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে এমপিডাঙ্গী, ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী ও বাইল্যাডাঙ্গী গ্রামে পদ্মা তীরে জিও ব্যাগের ডাম্পিং কাজ চলছে। এছাড়া চরভদ্রাসনে পদ্মাতীর স্থায়ী সংরক্ষণে ২৯৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে বলে তিনি জানান।