ভৈরবে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্য পদ এক যুগেও পূরণ হয়নি। ফলে রেলওয়ের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, কর্মী ও দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে বিভাগ ১৯৬৪ সালে ভৈরবে দু’টি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে। ১০ বছর আগে একটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ভৈরব জংশন লাগোয়া হাসপাতালটি চালু থাকলেও নেই কার্যক্রম। হাসপাতাল বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। ফলে বখাটেদের আড্ডা চলে এখানে।
একমাত্র এই হাসপাতালটিতে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মেডিসিন কেয়ারিং, দুইজন ওয়ার্ডবয়, একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, একজন অফিস সহকারী ও একজন পাহারাদারের পদ রয়েছে। বর্তমানে একজন ওয়ার্ডবয়, একজন মেডিসিন কেয়ারিং ও একজন পাহারাদার ছাড়া অন্য সব পদ শূন্য। চিকিৎসকের পদটি ২০০৬ সালের শুরুর দিকে শূন্য হয়। ছয় বছর ধরে শূন্য থাকার পর ফার্মাসিস্টের একমাত্র পদটি পূরণ হয় ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর। বর্তমানে ময়মনসিংহ রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক আইবুর রহমান ভৈরব হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। কিন্তু তিনি ভৈরব আসেন না। শুধু প্রশাসনিক কাজ করেন। এ অবস্থায় বর্তমানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব পড়েছে ফার্মাসিস্টের ওপর। একমাত্র ফার্মাসিস্ট নামমাত্র স্বাস্থসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
জানতে চাইলে ফারমাসিস্ট কামরুজ্জামান বলেন, চালক ছাড়া যেমন ট্রেন চালানো যায় না, তেমনি ডাক্তার ছাড়া হাসপাতালে চলতে পারে না।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার অমৃত লাল দাস দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিপদে আছি, নিজেদের স¦াস্থ্যসেবা যেমন-তেমন, ট্রেনে দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীদের নিয়ে অসহায় হয়ে পরতে হয়।
রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা লুৎফুর নাহার বলেন, দীর্ঘ দিন পদ শূন্য থাকার মূল কারণ চিকিৎসক নিয়োগ না দেয়া। তবে দ্রুত ১৪ জন চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চিকিৎসক দেয়া হলে ভৈরবের সমস্যা দূর হতে পারে।