ময়মনসিংহের ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাস্টার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত পাঁচজনকে আটক করেছে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) পিবিআই। বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল ও দা।
গত ৩ জুলাই মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাস্টারকে (৬৫) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারছিল না থানা এবং ডিবি পুলিশ তখন ওই মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৩ আগস্ট মামলা হাতে পাওয়ার পর ১৮ দিনের মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচজনকে আটক করেছে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, জমির প্রকৃত মালিকদের পক্ষে ও স্থানীয় জমির দালালদের বিপক্ষে কাজ করতেন আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাস্টার। তার হস্তক্ষেপের কারণে ন্যায্যমূল্য ছাড়া সাধারণ মানুষের জমি জোরজবরদস্তি করে দখলে নিতে পারত না দালালরা। সাধারণ মানুষের পক্ষ নেয়াটাই কাল হয় মতিন মাস্টারের জন্য। স্থানীয় রাজনীতি ও আকিজ গ্রুপের জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল খুনিরা। ওই সময় তাদের মধ্যে একজন মতিন মাস্টারের গলায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ দেয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত কয়েকজন মিলে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখে তাকে। পিবিআই আরো জানায়, মুক্তিযোদ্ধা হত্যার পরিকল্পনাকারী বা মূলহোতা ছিল সাবেক ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন আকন্দ ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রুবেল। রুবেল আটক হলেও মোবারক মেম্বার এখনো পলাতক। আটককৃতদের জবানবন্দীতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। সেলিম ডাকাতের দেয়া তথ্য মতে তার নিজ বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি দা। ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করেছে পিবিআই।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার রায়মনি গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রুবেল, নারায়ণপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে ইদ্রিস আলী, একই গ্রামের চান মিয়ার ছেলে সেলিম ডাকাত, তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোহাগ ও খাগাটি গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে জমির দালাল দুলাল উদ্দিন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক (পিবিআই) বলেন, আটককৃতদের জবানবন্দী অনুযায়ী সাধারণ মানুষের পক্ষ নেয়া, স্থানীয় রাজনীতি ও আকিজ গ্রুপের জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।