সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিকদের সংগঠন সাদা দল। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই মানববন্ধন কর্মমূচির আয়োজন করা হয়। সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক ড. লুৎফর রহমানের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেনÑ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, ড. মো: আখতার হোসেন খান, ড. সিরাজুল ইসলাম, ড. সুকোমল বড়ুয়া, ড. মো: ছিদ্দিকুর রহমান খান, ড. মহিউদ্দিন। এ ছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড. মো: আবদুর রশিদ, ড. মো: আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা, অধ্যাপক মনিরা আহসান, ড. মো: শহীদুল ইসলাম, ড. মো: মুজাহিদুল ইসলাম, মো: আতাউর রহমান বিশ্বাস, ড. মো: মাসুদ আলম, মো: দাউদ খান, আলমগীর হোসেন সম্রাট, ইস্রাফিল প্রামাণিক রতন, সাবরিনা শাহনাজ, আল আমিন, ড. মো: শামছুল আলম, ড. মহিউদ্দীন, ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম, নূরুল আমিন শিশির, এহসানুল মাহবুব যোবায়ের, মো: মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশ আজ গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত। দেশের সর্বত্র চলছে চরম দুঃশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। নেই বাক-স্বাধীনতা, চলছে দমন-পীড়ন ও শোষণ-বঞ্চনার রাজনীতি। গুম, খুন, মামলা, হামলার রাজনীতি। চলছে দুর্নীতি ও কুশাসন। হামলা-মামলা-গ্রেফতার থেকে কেউ রেহাই পায় না। শুধু ভিন্নমতাবলম্বী হলে তার মামলার পরিমাণ শুধু বাড়ছেই। শুধু সরকারের ভিন্নমতাবলম্বী হওয়ার কারণে ঢাকা বিশ^বিদ্যালেয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের মতো শিক্ষকেরাও মামলা থেকে রেহাই পান না। কারণ, তারা বর্তমান সরকারের পক্ষে কথা বলেন না। তারা না-কি নাশকতার সাথে জড়িত।
দেশে নাগরিক অধিকারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যায্য দাবি আদায় করতে গিয়েও নির্যাতন থেকে রেহাই পায় না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। রেহাই পায় না কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরা। দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আজ মিথ্যা মামলায় পরিত্যক্ত জেলের নির্জন প্রকোষ্ঠে বন্দী। তিনি চিকিৎসার অধিকার থেকেও বঞ্চিত।
এ সময় তিনি বর্তমানে অবাধ ও সুষ্ঠু রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপনে চারটি প্রধান শর্ত পূরণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সেগুলো হলোÑ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দমতো হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তিদান, অবিলম্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করুন।
ড. সদরুল আমিন বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করা হয়েছে। আমি তার অবিলম্বে মুক্তি ও পছন্দমাফিক হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানাই।
অধ্যাপক ড. মো: আখতার হোসেন খান বলেন, এ মুহূর্তে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রথম বাধা হিসেবে আমরা মনে করি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি দলের নেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্মমভাবে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। মানবিক কারণে আমরা তার প্রতিবাদ করছি। এ দেশে যদি একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান তাহলে এই নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক মামলা-হামলা বন্ধ করতে হবে। গুম-খুন বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্যে তাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ দিতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ যাকে খুশি তাকে নির্বাচন করবে। এতে যদি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও নির্বাচিত হয়, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। মানুষ যাকে চাইবে তারাই এ দেশ পরিচালনা করবে, এটাই তো হওয়া উচিত।
ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার আবারো যেনতেনভাবে নির্বাচন করার জন্যই খালেদা জিয়াকে বন্দী করেছে মিথ্যা মামলায়। পুলিশ মৃত ব্যক্তিকেও মিথ্যা মামলায় আসামি করছে। কিন্তু দেশবাসী এই গণতন্ত্র চায় না। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে দেশে শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য মানববন্ধন করতে হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে খুবই অসুস্থ। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই তাকে মুক্তি দিতে হবে, যাতে তিনি ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, একটি মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে আট মাস ধরে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি ভীষণ অসুস্থ। এরই মধ্যে ভিন্ন একটি মামলা পরিচালনার জন্য অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে। তবে তিনি মনোবল হারাননি। আমরা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেয়ার অনুরোধ করছি।





