জিয়া পরিবারের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এ মানববন্ধন হয়। এ সময় সাদা দলের শিক্ষকেরা দেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানসহ সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেই সাথে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান।
সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক ড. লুৎফর রহমানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, সাদা দলের প্রচার সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর, ড. শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাবি সিনেটের সাবেক সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড. মো: আবদুর রশিদ, অধ্যাপক মো: আতাউর রহমান বিশ্বাস, অধ্যাপক মো: আবুল কালাম সরকার, অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, মো: আলামিন, আলমগীর হোসেন সম্রাট, ইস্রাফিল প্রামাণিক রতন, আল আমিন, ড. মহিউদ্দীন, ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম, শামীম, নুরুল আমিন, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মো: মিজানুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক।
অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বলেন, সরকার সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করেছে। আমি তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাই। তিনি বলেন, এমনি পরিস্থিতিতে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। শুরু হয়েছে ভুয়া ও মিথ্যা মামলা। আমরা এসব বন্ধ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানাই। ভোট দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। ক্ষমতার মালিক জনগণ।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশে চলছে আজ দমন-পীড়নের রাজনীতি, গুম-খুনের রাজনীতি, দেশে চলছে ভয়াবহ দুঃশাসন। গণতন্ত্র ধ্বংস। দুর্নীতি সর্বত্র গ্রাস করেছে। বাকস্বাধীনতা তো হরণ করেছে সরকার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মদুধুল ইসলাম সরকারের সমালোচনা করায় তাকে রিমান্ডে নিয়েও নির্যাতন করেছে এই সরকারের বাহিনী। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য দেশ স্বাধীন হলেও দেশের জনগণকে দমন করতে সর্বশেষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে ডিজিটাল দমন আইন পাস করেছে বর্তমান সরকার।
তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। কিন্তু এই মামলায় তারেক রহমানের নাম ছিল না। তাকে জড়ানো হয়েছে জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সরকার জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। তারেক রহমান এবং তার জনপ্রিয়তায় তারা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে না। কারণ ক্ষমতা হারানোর ভয়? ক্ষমতা তো জনগণের হাতে। ভোট দিলে ক্ষমতায় যাবেন আর না দিলে যাবেন না। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে, খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে, হামলা-মামলা বন্ধ না হলে দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না।
অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, দেশ ও জাতি বিনির্মাণে জিয়া পরিবারের নাম মোছে ফেলা যাবে না। জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক অবদান ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছে। নির্যাতন নিপীড়ন করে কোনো লাভ হবে না। সরকার জিয়া পরিবারের উজ্জ্বল নক্ষত্র তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকার আবারো একটি নীল নকশার নির্বাচনের চেষ্টা করছে। আজকে জিয়া পরিবারকে নির্বাচনের বাইরে রাখা এবং ধ্বংস করতেই এ ষড়যন্ত্র। একটি মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করা হয়েছে। তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ১৫টি মামলা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো তিনি ক্ষমতায় আসার পর আজ অকার্যকর। এমনি অবস্থায় জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়ানো হয়েছে তারেক রহমানকে। আমি এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে দেশে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।