সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা বন্ধ হওয়ার পথে। শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি, চর-বিড়ায় শিক্ষকদের সমন্বয়ের অভাব, পোস্টিং বাণিজ্য, চরে শিক্ষকতায় অনীহাসহ বিভিন্ন কারণে চরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে উপবৃত্তি চালু, বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সরকারের নেয়া নানামুখী পদক্ষেপও কোনো কাজে আসছে না।
চরের শিক্ষকদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাসস্থানের অপর্যাপ্ততা, বিদ্যুৎসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে চরের বিদ্যালয়গুলোতে তারা থাকতে চান না। আবার যারা চরের স্কুলে কর্মরত তাদের বেশির ভাগ শিক্ষকই যমুনার পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকায় যাতায়াত করেন। অনেকে সিরাজগঞ্জ শহর এবং পাশের ধুনট ও শেরপুর উপজেলা থেকে চরের স্কুলগুলোতে শিক্ষকতা করে থাকেন। ঝড়বৃষ্টিসহ বৈরি আবহাওয়ার দিন তারা স্কুলে যান না।
চরের অধিবাসীরা জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকায় যমুনা পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছাতে শিক্ষকদের বেলা ১১ থেকে সাড়ে ১১টা বেজে যায়। আবার বেলা ৩টার আগেই শিক্ষকদের বাড়ি ফিরতে নৌকাঘাটে আসতে হয়। মাঝখানে টিফিনের বিরতি দিতে হয়। এতে একজন শিক্ষক পড়ানোর জন্য মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় পান।
নাটুয়াপাড়া চরের অভিভাবক জানান, শিক্ষকেরা অনিয়মিত যাতায়াত করেন। আবার স্থানীয় হাটবারে চরে বসবাসরত শিক্ষকদের বেশির ভাগই বিদ্যালয়ে যান না।
কাজিপুর শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাজিপুরে ২৮ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু তাদের যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। যেখানে চরের প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট প্রকট সেখানে সমন্বয়হীনভাবে বিড়া এলাকায় ১৮ জন এবং চরে মাত্র ১০ জন শিক্ষককে যোগ দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের থেকে শুধু শূন্যপদের তালিকা নেয় জেলা অফিস। শিক্ষকদের যোগদানসংক্রান্ত সব কাজকর্ম সম্পন্ন করে সিরাজগঞ্জ জেলা অফিস।