পারিবারিক কলহের জের ধরে লক্ষ্মীপুরে শিল্পী বেগম নামে এক গৃহবধুকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী হোসেন ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। রোববার সকালে পুলিশ নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী হোসেন মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, গত কয়েক বছর আগে সদর উপজেলার যাদৈয়া এলাকার আবুল হাসেমের মেয়ে শিল্পী বেগমের সাথে একই উপজেলার সুতারগোপটা এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে হোসেন মিয়ার বিবাহ হয়।
বিয়ের পর থেকেই হোসেন ও শিল্পী বেগমের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। সম্প্রতি শিল্পী বেগমকে না জানিয়ে হোসেন চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
এ বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। এর জের ধরে গত শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী হোসেন মিয়াসহ অন্যরা জোর করে শিল্পী বেগমের মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে তাকে হত্যা করে।
পরে স্বামী হোসেন মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিল্পী বেগম বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচার করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিল্পী বেগমের লাশ উদ্ধার করে।
লক্ষীপুর সদর থানার ওসি মোঃ লোকমান হোসেন জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে শিল্পী বেগমকে জোর করে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত স্বামী হোসেন মিয়াসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
আরো পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে গৃহবধুকে গলা টিপে হত্যা
লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা, ১৮ জুন ২০১৮
লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় কামরুন্নাহার নামের গৃহবধুকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ীর বিরুদ্ধে।
নিহত কামরুন্নাহার সদর উপজেলা দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ের পালেরহাট এলাকার প্রবাসী আবুল হাসনাতের মেয়ে। সোমবার সকালে নিহতের নিজ এলাকায় জানাযা শেষে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ী পলাতক রয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, শনিবার ঈদের দিন সকালে নিহত কামরুন্নাহারকে শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় (নাজমা মঞ্জিল) শ্বশুর বাড়ীতে শারিরীক নির্যাতনসহ বেধম মারধর করে স্বামী সোহরাব, শ্বশুর তোফায়েল ও শাশুড়ী নাজমা বেগম। এক পর্যায়ে নিজেরাই মুমূর্ষূ অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
অবস্থা অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে নিহতের লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ী।
নিহতের খালা শিল্পি জানান, গত দু বছর আগে সোহরাবের সাথে কামরুন্নাহারের কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে হয়। এক বছর পর একটি ছেলে সন্তান আসে তাদের ঘরে। এর পর থেকে যৌতুক দাবী করে আসছে সোহরাব হোসেন। যৌতুক না দেয়ায় বিভিন্ন সময় শারিরীক নির্যাতন করতো এবং সর্বশেষ গত ১৮ রমজান ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে সে।
ঈদের আগে ১২ হাজার টাকা ঈদ সালামি ও সেমাই চিনিসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী দেয়া হয়েছে বলে জানান খালা। অথচ দাবীকৃত ওই টাকা না দেয়ায় ঈদের দিন স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ী মিলে গলা টিপে ও বেধম মারধর করে।
হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। এদিকে নিহত কামরুন্নাহারের নাম গোপন রেখে হাসপাতালে ফারিহা উল্ল্যেখ করে ভর্তি করে স্বামী সোহরাব। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনাস্থল (নাজমা মঞ্জিল) পরিদর্শন করে লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক গনেশ চন্দ্র শীল জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকান্ড। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।









