বিভিন্ন দল ও জোটের মনোনয়ন প্রাপ্তদের তালিকা চুড়ান্ত প্রকাশিত না হলেও মানিকগঞ্জ ৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে শেষ মূর্হুতে ২টি করে আসনের প্রার্থী মোটামুটি চুড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

মানিকগঞ্জ -৩ আসন অর্থাৎ মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী, মরহুম কর্নেল আব্দুল মালেক এর পুত্র জাহিদ মালেক স্বপন আর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী ও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, জেলা বিএনপি সভাপতি আফরোজা খান রিতা।

মানিকগঞ্জ -১ আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অর্ধিনায়ক নাঈমুর রহমান দূর্জয় এর মনোনয়ন নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র। অপর দিকে বিএনপির প্রার্থী এখনও নিশ্চিত নয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর নাম জানতে হয়তো শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ জিন্না কবীর, জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক ও দৌলতপুর উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ তোজাম্মেল হক তোজা, বিএনপির মরহুম মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই পুত্র বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু, জেলা বিএনপি’র কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু।

যদি কেন্দ্র আফরোজা খান রিতাকে দিয়ে ১টি আসনেই নির্বাচন করায় তাহলে এ আসনে এস এ জিন্না কবীর ও তোজাম্মেল হক তোজার নামই নেতা-কর্মীদের মুখে বেশি শোনা যাচ্ছে এবং এদের মধ্য হতেই দলীয় প্রার্থী পাবেন বলে নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা।

তোজাম্মেল হক তোজা বর্তমানে গ্রেফতার থাকাতে তার সমর্থক নেতা-কর্মীদের মাঝে কিছুটা হতাশা থাকলেও তারা আশাবাদী বলে দাবী করেন এবং বলেন সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ, বিভিন্ন বাহিনী গঠনকারী, দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভিন্নভাবে হেয় ও নাজেহাল করা, অপমান-অপদস্ত করা, সাধারন মানুষের কাছে দলকে ছোট করার মত কাজ অতীতে যারা করেছে তাদের যেন মনোনয়ন দেয়া না হয়।

বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, আমার ক্লিন ইমেজের একজন ভাল মানুষকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পেতে চাই। যাতে সাধারন জনগনের কাজে ভোট চাইতে আমাদের কোন কষ্ট না হয়। তাছাড়া অতীতে যাদের বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের রেকর্ড আছে তাদের মনোনয়ন দিলেই আমরা কাজ করবো এমনটা ভাবা ঠিক নয়।যারা অতীতে মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন করেছে তারা যতই ওয়ারিশান সার্টিফিকেট আর বাপ-দাদার দোহাই দিক জনগন তাদের প্রত্যাখান করবে।

তাই কোন আবেগ আর ব্যালেন্স রক্ষার জন্যে নয় জয়ের জন্যেই বিএনপি যেন প্রার্থী মনোনয়ন দেয় এমন দাবী নেতা-কর্মীদের। অন্যথায় এ আসন হারাতে হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অপরদিকে এস এ জিন্না কবীরের সমর্থকেরা বলেন যে, জিন্না কবীর একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ। দল যদি এ আসনে বিজয় চিন্তা করে তাহলে তাকে মনোনয়ন দেয়া উচিৎ। তিনি শত বাধা বিপত্তিতেও দলের নেতা-কর্মীদের কখনও ছেড়ে যাননি। তিনি শহীদ জিয়ার সেই জাগো দলের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য। তাছাড়া তিনি হামলা-মামলা মাথায় নিয়েই এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। মনোনয়নের শেষ সময়ে দল অবশই সঠিক সিন্ধান্ত নিবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

আফরোজ খান রিতার সমর্থক নেতা-কর্মীরা বলেন, আফরোজ খান রিতা জেলার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি। সাধারন মানুষের চাহিদা মাথায় নিয়েই তিনি মনোনয়ন কিনেছেন। হাই কমান্ড মনোনয়ন দিলে তার বিজয় নিশ্চিত। দলের ইমেজ ক্ষুন্নকারী কাউকে মনোনয়ন দিলে এ আসন উদ্ধার সম্ভব নয়।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রাার্থী সাবেক মন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার পুত্র, সাবেক এমপি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত নিশ্চিত বলে জানা গেছে।

অপর দিকে মহাজোটে মহাজট লেগে আটকে আছে প্রার্থী ঘোষণা।এ আসনের বর্তমান এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের কপাল পোড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এ আসনের সাবেক এমপি সদ্য বিকল্প ধারায় যোগ দেয়া গোলাম সরোয়ার মিলন এবং এ আসনের সাবেক এমপি,জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এস এম মান্নান।

জাতীয় পার্টি ও বিকল্পধারা যে কোন মূল্যে এ আসন পেতে মরিয়া বলে জানান সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিধায় এ আসনের মহাজোটের নিশ্চিত প্রার্থী পেতে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে শেষ দিন পর্যন্ত।

প্রার্থীদের ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত হলেও উভয় জোট হতেই বলা হচ্ছে বিজয়ী হতে শেষ পর্যন্ত যে কোন সময় যে কোন পরিবর্তন হতে পারে।