ফেনীতে একের পর এক গায়েবি মামলায় বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্নপর্যায়ের শত শত নেতাকর্মী বাড়িঘর ছাড়া। প্রতিদিন চলছে ধরপাকড়। পরিস্থিতিতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কায় নেতাকর্মীরা। শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে অন্তত অর্ধশত মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি মামলার তথ্য তারা নিশ্চিত করেছেন।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের অভিযোগ করেন গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত জেলার ছয় থানায় ৩১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এক হাজার ৮২৩ জনকে আসামি করা হয়। জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও যুবদলের সদ্যসাবেক সভাপতি গাজী হাবিব উল্লাহ মানিকসহ গ্রেফতার রয়েছেন প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী। গাজী মানিকের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৪টি মামলা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, আদালত থেকে জামিন লাভের পর কারাফটকে পুনঃগ্রেফতার করায় নেতাকর্মীরা জামিন পেয়েও মুক্তি পাচ্ছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও পৌর সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাল প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত তালিকায় তারা উল্লেখ করেন, জেলায় সর্বাধিক মামলা হয়েছে সদর মডেল থানায়। এখানে ২২টি মামলায় আসামি হয়েছেন এক হাজার ২৮৭ জন। সোনাগাজী মডেল থানায় দুইটি মামলায় আসামি ৭৬ জন, দাগনভূঞা থানায় দুইটি মামলায় আসামি ১০৪ জন, ফুলগাজী থানায় দুই মামলায় আসামি ৯৭ জন, পরশুরাম মডেল থানায় দুই মামলায় আসামি ১৬৬ জন, ছাগলনাইয়া থানায় এক মামলায় ৭৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছাগলনাইয়ার রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক চৌধুরী মাহবুব, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাবুল হোসেন কাবুল, বালিগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, জেলা যুবদলের সহসভাপতি হাসানুজ্জামান শাহাদাত, যুগ্ম সম্পাদক আমজাদ হোসেন সুমন, দফতর সম্পাদক আল ইমরান, সদর উপজেলা আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন মজুমদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ সবুজ, ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুল ইসলাম আকাশ, মিজানুর রহমান রাসেল, আব্বাস পাটোয়ারিসহ ৩৯ জনের নাম রয়েছে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিনা মামলায় শুধু সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের দেয়া তালিকার ভিত্তিতে পুলিশ অহরহ গ্রেফতার করছে। শুধু তাই নয়, সরকার দলীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি ও দোকানপাট থেকে ধরে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করছে।
এদিকে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ করা হয়। তারা বলেন, পুলিশের দেয়া বিভিন্ন মামলায় নেতাকর্মীরা জামিন লাভের পরও ফের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এছাড়া নিরীহ লোকজনদের ধরেও সাজানো মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তবে গায়েবি মামলা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা কাজ করছেন।