বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানা এলাকায় সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশের সাথে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধে নিহতের নাম মামুন সরদার (২৭)। তিনি হিজলা উপজেলার খুন্না গ্রামের মালেক সরদারের পুত্র বলে জানা গেছে। এদিকে নিহত মামুন সরদার আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য বলে দাবি করেছে পুলিশ।

কাজীরহাট থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক পিপিএম দাবি করেন, বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি পাইপগান, দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, বেশকিছু গুলির খালি খোসা, দুইটি রামদা, একটি শাপল ও ছয়টি মুখোশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাজীরহাট এলাকার পান্না মীরের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে কয়েকদিন পূর্বে রাসেল হাওলাদার নামের একজনকে আটক করা হয়। পুলিশের কাছে ও আদালতে রাসেলের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই ডাকাতির ঘটনা মামুন সরদারের নেতৃত্বে সংঘটিত হয় বলে জানানো হয়। যার মালামালও মামুন সরদারের কাছে রয়েছে বলে জানান রাসেল।

এর সূত্রধরে মামুনকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে সোমবার রাত আটটার দিকে মুলাদী ব্রীজ এলাকা থেকে মামুন সরদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, কাজীরহাট থানা এলাকার কাজীরাবাদ ডিগ্রিরপাড়স্থ মনিরের ইটভাটার পশ্চিমপাশে ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযানে যায় পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামুনের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘গুলি চালায়’।

এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় মামুন পালিয়ে যাওয়ার জন্য দৌঁড় দিলে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় বলে দাবি করা হয়। পরে তাকে মুলাদী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কাজীরহাট থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক পিপিএম আরো জানান, নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় অস্ত্র আইন, পুলিশের ওপর হামলা ও মামুন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত মামুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।