চলছে মাইকিং, পোস্টারিং, গণসংযোগ আর উঠান বৈঠক। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় রাত-দিন একাকার। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বাদ পড়েনি কোনো আয়োজনই। কিন্তু তারপরও কাজ হচ্ছে না। কিছুতেই ভোটের আমেজ ছড়াচ্ছে না।
বলতে গেলে ভোটের পিঠে ভোট। জাতীয় নির্বাচনের পর এখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। গেল নির্বাচনের পর ভোট নিয়ে মোটেই আগ্রহী হচ্ছেন না ভোটাররা। প্রার্থীরা সরব হলেও ঘুমন্ত ভোটাররা। তাই জনসমাগমের স্থানগুলোতেও দৃশ্যমান হচ্ছে না ভোটের সরব আলোচনা। ভোটারদের সাথে আলোচনা করে জানা গেল আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচনে এই দুই উপজেলায় নৌকার অবস্থা তেমন ভালো নয়। দুই উপজেলাই আনারস প্রতীকে হাওয়া লেগেছে। বিয়ানীবাজারে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খানের সাথে দলের তিন বিদ্রোহীসহ পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর দিকে গোলাপগঞ্জে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী। এই উপজেলায় একক প্রার্থী হলেও দলীয় কোন্দলে তিনিও ধরাশায়ী হওয়ার পথে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হচ্ছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন (আনারস), কার্যকরী সদস্য শামীম আহমেদ (মোটরসাইকেল) ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব (হেলিকপ্টার), জাতীয় পার্টির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী আবুল হাসনাত (দোয়াত-কলম) ও আলকাছ আলী (ঘোড়া)।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ (আনারস), ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী জহির আহমদ (মিনার)।
জানা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা রাজনীতি, আঞ্চলিকতা ও ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে পুরোদমে প্রচারণা শুরু করেছেন। ভোটাররাও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে মনস্থির করছেন। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগে উন্মুক্ত প্রার্থী থাকায় দলীয় সমর্থকরা সাপোর্ট রদবদল করতে দেখা গেছে। প্রথম দিকে বিদ্রোহীদের পক্ষে থাকলেও এখন অনেকেই নৌকায় ভিড়তে শুরু করেছেন। এ জন্য বিয়ানীবাজারে ভোটের দৃশ্যপট প্রায় পাল্টে যাচ্ছে। তবে গোলাপগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীরা ইকবাল চৌধুরীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালালেও ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে অনৈক্য প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠন নির্বাচন বর্জন করেছে। বিয়ানীবাজারে জাতীয় পার্টির দুই নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করলেও তাদের সাথে ভোটারের তেমন সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু গোলাপগঞ্জে বিএনপি সমর্থক অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। বিগত নির্বাচনেও তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তার ব্যক্তিগত ইমেজের পাশাপশি পারিবারিক অবস্থানও রয়েছে। তখন দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে পরাজিত করে জামায়াতের প্রার্থী হাফিজ নাজমুল ইসলাম জয়লাভ করেন।
এবারো ইকবাল চৌধুরীকে পরাজিত করতে দলের ঠাণ্ডা মাথার কারিগররা সক্রিয় রয়েছেন। তবে অ্যাডভোকেট ইকবাল চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট রশীদ আহমদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির একটি অংশ রশীদ আহমদের বিরোধিতা করলেও এ পর্যন্ত তিনি অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।





