ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু বলেছেন, ‘এক মাস আন্দোলন করে তারা মনে হয় দেশ কিনে ফেলেছে। দেশে যেন তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। আমরা যদি প্রয়োজন হয় তারেক রহমান নির্দেশ দেন আমরা দেশ গড়ার লক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। আজকে তারা জুলাই মাসে এক মাস আন্দোলন করে সমস্ত কিছুর দাবিদার তারা বলেন। চাঁদাবাজ ধরতেছে দেখেছেন।’
মঙ্গলবার বিকালে জেলার ছাগলনাইয়ার চাঁদগাজী বটতলী বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোক রাজপথে ছিল দাবি করে মজনু আরো বলেন, ‘জুলাই মাসে শুধু আমাদের সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। যা আর কারো হয়নি। আমরা আন্দোলন করেছি বলে জেলখানায় ছিলাম। বিএনপি আন্দোলন না করলে জেলাখানায় নিতো না। ফেনী-১ আসনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি তখন সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমরা বছরের পর বছর জেল খেটেছি। কিন্তু কখনো অপশক্তির সাথে হাত মিলাইনি। আমরা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম।’
মজনু আরো বলেন, বিএনপি জনগণের দল। আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দলটি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। তিনি শুধু দলকে প্রতিষ্ঠা করেননি। দেশের গণতন্ত্র ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও দেশকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছর বন্ধুত্বের পরিবর্তে প্রভুত্ব গড়ে তোলেছেন। একটি দেশকে তারা প্রভু হিসেবে মানতো। যখন বন্যার পানি ছেড়ে দেয়া দরকার তখন পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদের ডুবিয়ে দেয়া। আবার যখন বিনা পয়সায় ট্রানজিট নেয়া দরকার তখন সেটা করেছে। আবার ফ্যাসিবাদ সরকারকে তারা সহযোগিতা করেছে। আজকে আবার তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনা যাচ্ছে। তারা বিনা ভোটে এ সরকারকে নির্বাচিত করেছে। এখন আবার সকলের অংশগ্রহনে নির্বাচন দরকার বলছে। কিন্তু গত ১৬ বছর পাশ্ববর্তী দেশের সরকার বলেনি। যারা খুন, গুম এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের হত্যা চালিয়েছে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ এমন হওয়া উচিত আমরা যে দল করি না কেন সবাই এক সাথে থাকার পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি আরো বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ বন্যা থেকে মুক্তি চায়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ চায়। ত্রাণ চায় না। আশা করছি দ্রুত সময়ের মাঝে টেকসই বাঁধ নির্মাণ হয়ে সেই জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু তালেব।
বিএনপি নেতা ফজলুল করিম লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর আহম্মদ মজুমদার ও সদস্য সচিব মো: আলমগীর বিএ, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এস এম কায়সার এলিন প্রমুখ। এর আগে তিনি ফুলগাজীতে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।









