ফেনী শহরতলির পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের তেমুহনীতে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন শুভ (১৪) হত্যার ঘটনায় সহপাঠী মো: ইসমাইল হোসেন ইমনকে (১৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে ইমন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুরেজিৎ বড়–য়া সোমবার বিকেলে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামের আবদুস সালাম মিস্ত্রীর বাড়ি থেকে মো: কামাল উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন ইমনকে গ্রেফতার করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সে। মঙ্গলবার দুপুরে ইমনকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুরেজিৎ বড়–য়া। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে ইমন একাই ছুরি দিয়ে শুভকে খুনের কথা জানায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানায়, তেমুহনী মাদার কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সে। শুভও একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। গত ৩০ জানুয়ারি বিকেলে সে শুভর কাছে এক সহপাঠীর মোবাইল নম্বর ও ছবি চায়। এনিয়ে শুভ ও ইমনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শুভ ইমনের মাকে নিয়ে গালমন্দ করে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। কোরবানির ঈদে কেনা ছুরি পকেটে নিয়ে কথা আছে বলে শুভকে সে তেমুহনী আসার জন্য ফোন দেয়। শুভ ৪টার দিকে সাইকেল চালিয়ে তেমুহনীতে এলে কথা বলতে বলতে মাথিয়ারা দোকানের পেছনে ঝোঁপের কাছে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে কথা বলার ফাঁকে ইমন শুভর গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তুই কী করলি বলে শুভ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন তার বুকের ওপর উঠে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। পরে ছুরিটি টিস্যু দিয়ে মুছে প্যান্টের পকেটে রাখে। গায়ে রক্তের দাগ পড়লে পার্শ্ববর্তী মাদরাসায় গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে বাড়ি চলে যায়।

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, ইমন একাই ছুরি দিয়ে শুভকে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ইমনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ির আলমিরা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুভর মা বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত আরাফাত হোসেন শুভ ৩১ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন ভোরে মাথিয়ারা ঝোপ থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।