যৌতুকের মোটরসাইকেল না পেয়ে ও গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধর ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম লাভলী আক্তার। আর নির্যাতনকারী অভিযুক্ত স্বামীর নাম মাসুম শরীফ। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা জেলার আমতলীতে।
এদিকে নির্যাতনের শিকার আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে স্বজনরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে জেলার আমতলী উপজেলার কলারং গ্রামের দেলোয়ার গাজীর কন্যা লাভলী আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী কড়াইতলা গ্রামের ইসমাইল শরীফের ছেলে মাসুম শরীফের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় লাভলীর পরিবার যৌতুক হিসেবে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হয়নি মাসুম। আর তাই বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী লাভলীকে নির্যাতন করে আসছিল স্বামী মাসুম শারীফ।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ লাভলী আক্তার বলেন, বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু স্ত্রীর অন্তঃসত্ত্বার খবরে খুশি না হয়ে বেসামাল হয়ে পড়ে মাসুম। গত এক সপ্তাহ ধরে লাভলীকে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট ও বাবার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য এক লাখ টাকা এনে দিতে বলে মাসুম।
এতে গৃহবধূ লাভলী রাজি না হলে মাসুম ক্ষিপ্ত হয়ে গত তিন দিন ধরে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। সোমবার সকালে ঘুম থেকে তুলে লাঠি দিয়ে পুনরায় বেধড়ক মারধর করে সে। এতে লাভলী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ওই বাড়ি থেকে লাভলীকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সোমবার দুপুরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় লাভলীকে। লাভলীর মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিখিল চন্দ্র জানান, তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা লাভলীর মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে।
নির্যাতনে আহত অন্তঃসত্ত্বা লাভলী কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, বিয়ের দেড় বছরে বিভিন্ন অযুহাতে অসংখ্যবার আমাকে মারধর করেছে মাসুম। গত এক সপ্তাহ ধরে আমার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট ও মোটরসাইকেল কেনার জন্য এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে সে। আমি তার কথা মত গর্ভের বাচ্চা নষ্ট ও টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে তিনদিন ধরে ঘরের মধ্যে আটকে নির্যাতন করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।









