সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন শিক্ষানবীশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম সারোয়ার হোসেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। গত শনিবার বিকেলে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ফেরদৌস হাসান কোতোয়ালি থানায় এই জিডি করেন।
ইন্টার্নী নারী ডাক্তারকে ‘তোর সাহস কত, লাশ ফেলে দিবো, ... বাইরে বের হও একবার, রেইপ করে ফেলবো, আমার পা ধরে তোকে মাফ চাওয়া লাগবে’ এমন ন্যাক্কারজনক হুমকির ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন সিলেট দক্ষিণ সুরমা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে ওসি সেলিম মিঞা জানান, সারোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। তদন্তকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পেটের পীড়ায় আক্রান্ত একজনকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রোগীর সঙ্গে একজন থেকে বাকিদের বাইরে যেতে বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চিকিৎসদের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এ সময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন চিকিৎসক নাজিফা আনজুম নিশাতকে ছুরি প্রদর্শন করে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ওই চিকিৎসক। ভূক্তভোগী চিকিৎসক নিশাত নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি উল্লেখ করে পোস্ট দিলে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা চিকিৎসকদের
এদিকে শিক্ষানবীশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা। তাদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করেন সিলেট বিএমএ সভাপতি ডা. বদরুল হোসেন রোকন। এসময় তিনি ২৪ ঘণ্টার ভেতরে অভিযুক্ত দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার না করলে বৃহৎ আন্দোলন করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
রোববার দুপুরে উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা বিক্ষোভ মিছিল করে নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে মেডিকেল কলেজের সামনে গিয়ে মানববন্ধন করেন।
এ সময় নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে ও ২৪ ঘণ্টার ভেতরে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন তারা। মিছিল শেষে ‘ডাক্তারদের নিরাপদ কর্মস্থল চাই’ শিরোনামে মানববন্ধন করেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা।







