সিলেটে আশঙ্কাজনকহারে হারে বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আর এর বেশির ভাগ কারণ হলোÑ বৈদ্যুতিক ক্রুটি এবং সচেতনতার অভাবে। ক্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক উপকরণের ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা বিপর্যয় ডেকে আনছে। শহরের মহল্লা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার প্রধান সড়কের সাথে সংযোগ রাস্তা ছোট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পর্যাপ্ত পরিমাণ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিয়ে যেতে পারেন না। অধিকাংশ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি যাওয়ার মতো রাস্তা নেই। নগরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। আর যেগুলোতে রয়েছে ভবনের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে সিলেটে ৩৫৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর গত বছরে ঘটে ৬৬২টি। সিলেট নগরীর অধিকাংশ বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে শপিংমল পর্যন্ত অসংখ্য বহুতল ভবন রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায়। এসব ভবনের মালিকরা কোনো ধরনের অগ্নি নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্রের ধারধারছেন না।
২০১৭ সালের জরিপে দেখা গেছে, নগরে ৫৮টি বহুতলা শপিংমল ও মার্কেটের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে ৩২টি। আর অতিঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে ২৩টি বহুতলা ভবণ। এগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা আছে। এ দিকে আশঙ্কাজনকভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের। এতে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। একে একে নগরের সব ক’টি ছোট রাস্তা প্রশস্তকরণ করা হবে। নগরে পর্যাপ্ত জলাধার আগেও ছিল এখন কিছুটা কমলেও প্রায় প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে পানির ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। শুনেছি সিলেটের অধিকাংশ বিপণী বিতানে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। আর যেগুলোতে রয়েছে তাও নি¤œমানের। যেসব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলো যথারীতি পরীক্ষা করা হয় না। আমরা খুব শিগগিরই এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।





