বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, যুবলীগ নেতা ও এলাহী অটো রাইস মিলের মালিক মো: ফরহাদ হোসেন মুন্সির বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে ৩৬ লাখ টাকার চেক লিখিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নানা অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার সকালে সরকারের বোরো ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে চাল ভর্তি তিনটি ট্রাক গুদাম এলাকায় প্রবেশ করে। এ অবস্থায় পৌর মেয়র হারিছুর রহমানের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মুন্সীর দীর্ঘদিন ধরে চালানো নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কথা প্রকাশিত হয়।
এ সময় গৌরনদী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্রপাল গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, গৌরনদী পৌর মেয়র মো: হারিছুর রহমান, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান জিনিয়া আফরোজ হেলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন ও গৌরনদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: মনির হোসেন মিয়ার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন, গৌরনদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও এলাহী অটো রাইস মিলের মালিক মো: ফরহাদ হোসেন মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে গৌরনদী খাদ্যগুদামে পচা চাল ও ছেঁড়া বস্তা দিয়ে আসছেন।
তিনি এ গুদামে যোগদান করার পর ভাইস চেয়ারম্যানের এ ধরনের কার্যকলাপে বাধা দিলে তিনি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ফুড ইন্সপেক্টর অশোক চৌধুরী বিষয়টি অবগত আছেন।
তিনি আরো জানান, দেশব্যাপী ধান সংগ্রহের অংশ হিসেবে গৌরনদীতে আমরা যখন ধান সংগ্রহে ব্যস্ত, তখন গত ১৮ মে ফরহাদ হোসেন মুন্সী আমার কাছে এসে গুদামে চাল দেয়ার প্রস্তাব করেন।
আমি তার চাল না নিয়ে এই মুহূর্তে ধান ক্রয় করা সংক্রান্তপ্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য গুদাম খালি রাখার কথা জানালে, তিনি আমাকে ভয় দেখিয়ে মাধ্যমে রুমের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
একপর্যায়ে আমার রুমের টেবিলের ওপর অবৈধ অস্ত্র রেখে আমাকে ভয় দেখান এবং আমাকে হুমকি দেন, এ উপজেলায় চাকরি করতে হলে তার নির্দেশ মানতে হবে। এরপর চাল না দিয়ে তিনি জোর করে আমাকে ৩৬,০০,৭২০/- (ছত্রিশ লাখ সাত শত বিশ) টাকার একটি অগ্রিম চেক দিতে বাধ্য করেন। যার চেক নম্বর- ডছঝঈ ২৬৬০৯৫০। জীবনের ভয়ে আমি এ কথা এর আগে কাউকে জানাইনি।
গৌরনদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও এলাহী অ্যাগ্রো অটো রাইস মিলের মালিক ফরহাদ হোসেন মুন্সীর নানা অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরার পর ওই ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিজের চাকরি ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সুভাষ চন্দ্রপাল গত সোমবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিনের বরাবরে একটি আবেদন করেছেন। বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, জেলা প্রশাসক বরিশাল ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরিশালকে এর অনুলিপি দেয়া হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন জানান, এ ব্যাপারে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও এলাহী এ্যাগ্রো অটো রাইস মিলের মালিক ফরহাদ হোসেন মুন্সী বলেন, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্রপালের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।