আনিসা রাজধানীর একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে তাদের রচনা লিখতে হয়েছে। পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্য স্কুল থেকে তিনটি রচনার নাম বলে দেয়া হয়েছিল। এগুলো হলোÑ ইওর স্কুল, এইম ইন লাইফ ও নিউজপেপার।
আনিসা জানায়, তাদের বইয়ে কোনো রচনা নেই। আছে কয়েকটি মাত্র প্যারাগ্রাফ। যে তিনটি রচনা শিখতে দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে আমাদের স্কুল বিষয়ে বইয়ে একটি প্যারাগ্রাফ রয়েছে মাত্র।
তাহলে এসব রচনা কিভাবে শিখেছ জানতে চাইলে আনিসা জানায়, গাইড বই থেকে শিখেছে। গাইড বইয়ে অনেক রচনা দেয়া আছে। সরকারিভাবে পাঠ্যকৃত ইংরেজি গ্রামার বইয়ে কোনো রচনা নেই। সে জন্য মেইন বই পড়াও হয় না, জানায় আনিসা।
আনিসা জানায়, বার্ষিক পরীক্ষার জন্যও ইংরেজি বিষয়ে স্কুল থেকে তিনটি রচনার নাম বলে দেয়া হয়েছে। এগুলো হলোÑ স্টুডেন্ট লাইফ, জার্নি বাই বোট ও ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ। যেহেতু মূল বইয়ে এসব নেই তাই গাইড বই-ই এখন তার প্রধান ভরসা। এ ছাড়া এ রকম আরো অনেক বিষয় আছে, যা মূল বইয়ে নেই; কিন্তু পরীক্ষায় আসে। পঞ্চম শ্রেণীর গাইড বই থেকেও কিছু কিছু বিষয় এখনো পড়তে হচ্ছে বলে জানায় সে। যেমন কিছু কিছু চিঠিপত্র লিখন এখনো সে পঞ্চম শ্রেণীর টেস্ট পেপারস থেকে শেখে।
বেশ কয়েকজন অভিভাবকের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সৃজনশীলের কারণে এসব হচ্ছে। কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা একদমই নেই মূল বইয়ে; কিন্তু পরীক্ষায় লিখতে হয়। আবার কিছু কিছু বিষয় আছে, যা বইয়ে অল্প পরিসরে আলোচনা করা হয়েছে, ধারণা দেয়া হয়েছে, নিয়ম-কানুন শেখানো হয়েছে; কিন্তু পরীক্ষায় এসব বিষয় বিস্তারিত লিখতে হয়। সে কারণে গাইড বই ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গাইড বই থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। আর প্রশ্ন অনুযায়ী সেখানে উত্তরও সাজিয়ে লিখে দেয়া আছে। অনেক সময় পরীক্ষায় কিছু প্রশ্নও আসে হুবহু গাইড বই থেকে।
একজন অভিভাবক বলেন, সৃজনশীলের কারণে কিছু কিছু মূল বইও কেমন যেন খাপছাড়াভাবে লেখা। অনেক প্রশ্নের উত্তরই মূল বই থেকে পুরোপুরি শেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধারাবাহিকতা নেই। বাইরে থেকে সাহায্য নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা বেশ কষ্টকরই শুধু নয়, বিরক্তিকরও বটে। সব কিছু মিলিয়ে পড়ালেখা নিরস বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেকের মূল বইয়ের প্রতি যেমন আগ্রহ কম তেমনি অনেকের পড়ালেখার প্রতিও অমনোযোগিতা তৈরি হয়েছে। আর অভিভাবকদের ভোগান্তি তো রয়েছেই। অনেক অভিভাবক অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, বইয়ে নেই এমন বিষয়ে পরীক্ষায় প্রশ্ন কেন আসবে। বাচ্চারা এসব শিখবে কোথা থেকে?