ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আলমনগর রোডের ভাটা নদীর উপর ১৯৮৭ সালে নির্মিত সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ‘মরণ সেতু’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেতুটি নির্মাণের পর আর মেরামত হয়নি, দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে গিয়ে সেতুটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
আশপাশের ১৫ গ্রামের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু পার হয়। গত কয়েক বছরে এই সেতু দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে চারজনের প্রাণহানিসহ শতাধিক পথচারী ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সময়ের মাঝে এই সেতুর কাজ করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির বিভিন্ন অংশ ক্ষয় হয়ে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। পূর্ব দিকে দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। একপাশে বাঁশ বেঁধে রাখা হয়েছে। দুটি রিকশা এক সাথে ওভারটেক করতে পারে না। ঝুকিপূর্ণ সেতুটি ব্যতীত এই নদী পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ছোট যানবাহন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষ প্রতিদিন এটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে নানান দুর্ঘটনা। একটি অটোরিকশা উঠলেই সেতুটি যেন কেঁপে উঠে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সেতুটির প্রশস্ততা কম থাকায় শুরু থেকেই বড় ধরনের কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এতে আশপাশের গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাট, তামাক, সরিষাসহ অন্যান্য শস্য ছোট ছোট ট্রলি, টেম্পো কিংবা রিকশা-ভ্যানে করে হাটবাজারে নিতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির প্রশস্ত কম থাকায় এবং সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে যাওয়ায় সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করার জন্য ২০১৬ সালে ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদফতর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রস্তাব পাঠানো হলেও রহস্যজনক কারণে ওই প্রস্তাব আলোর মুখ আর দেখেনি।
আলমনগর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রৌশন আক্তার জানান, ঝুকিপূর্ণ সেতু পার হবার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে নিয়মিত আসে না। নিরাপদে স্কুলে যেতে এই সেতুটি নতুন করে নির্মাণের দাবি করেছে ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা মো: সফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৫-৩০ বছর ধরে দেখছি সেতুটির কোনো মেরামত বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অপ্রশস্ত ও সেতুর মূল অংশ থেকে দুই পাশ বেশি ঢালু থাকার কারণে বড় যানবাহন উঠতে সমস্যা হয়। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শতাধিক অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচল করছে।
আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা, রোমান, ফারুক, মোস্তফাসহ পথচারীরা বলেন, এই সেতুটি দিয়ে ১৫টি গ্রামের মানুষ জেলা ও উপজেলা শহরে পৌরসভা অফিসে, হাটবাজারে, স্কুল-কলেজ, মাদরাসায় যাতায়াত করে থাকেন। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এসব গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে। গত কয়েক বছরে চারজন পথচারী সেতু থেকে পরে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। সেতুটি ওই সড়কে যাতায়াতকারীদের ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এটিকে ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করছি।
এ ব্যাপারে এলজিইডির নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘৩৫ মিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি নির্মাণ করতে প্রায় ২ কোটি টাকা লাগবে। ইতিমধ্যে এলজিইডির প্রজেক্ট ডিরেক্টর আমার কাছে লিখিতভাবে সেতুটি নির্মাণের প্রাথমিক তথ্যাদি চেয়েছেন। আশা করছি, খুব শিগগিরই সেতুটি নতুন করে নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।’









