রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি শান্তি মিশনে গড়ে উঠেছে দেশের ঔষধি উদ্ভিদের একমাত্র জিনব্যাংক। শুক্রবার বিকালে উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের শান্তি মিশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিষ্ঠাতা ড. নিম হাকিম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছরের পরিশ্রমের ফসল আজকের এ ঔষধি জিনব্যাংক। এখানে পৃথিবীর অনেক বিলুপ্ত ও বিরল প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদ রয়েছে। বিলুপ্ত প্রায় দেশী প্রাণিকুলের অবাধ বিচরণ রয়েছে এ শান্তি মিশনে। এ মিশনে রয়েছে দেশের একমাত্র ইকোপন্ড।

সমগ্র কমপ্লেক্সটি একটি অর্গানিক বা ইকো কমপ্লেক্স। দেশীয় প্রজাতির অনেক ফলজ ও বনজ বৃক্ষের সমারোহ। নিজেদের তৈরীকৃত কেঁচো কম্পোষ্ট সার দিয়ে ঔষধি উদ্ভিদের চাষ করা হয়। উৎপাদিত ঔষধি উদ্ভিদের প্রক্রিয়াজাত এবং তা থেকে প্রসাধনী সামগ্রী ও ফাংশনাল ফুড এখানে তৈরী করা হয়।

৪২ একর জমির উপর এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রাকৃতিক উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক ভেজস গবেষণাগার ও উন্নয়ন কেন্দ্র। যা পৃথিবীর কোথায়ও এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের কপিরাইট প্রাপ্ত এ প্রতিষ্ঠানটি।

এখানে ঔষধি উদ্ভিদের মা গাছ থেকে চারা ও বীজ উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারণ চলছে।
এখানে উৎপাদিত জৈব বা অর্গানিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে সৌদি আরব, মিশর, জাপান, কোরিয়া ও মালয়েশিয়ায়। এসব কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হলো, নিরাপদ ঔষধি ও খাদ্য সামগ্রীর উন্নয়ন করা। প্রাকৃতিক ঔষধ ও ফাংশনাল ফুড এবং প্রসাধনী তৈরীর কলাকৌশল হাতে কলমে শেখানো এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রণয়ন করা।

এতে করে ধারিত্রী রক্ষা হবে, হবে দারিদ্র বিমোচন এবং প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের স্বাস্থ্য নিরাপদ থাকবে। এখানে ৬৯৭ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। ইতোমধ্যেই যার ছবিসহ ক্যাটালগিংয়ের কাজ চলছে এবং প্রতিটি ঔষধি উদ্ভিদের জীবন বৃত্তান্ত, কার্যকারিতা এবং কিভাবে মানব শরীরে কাজ করে তারও বিবরণ থাকছে।

প্রথম দেশের প্রাপ্ত ঔষধি উদ্ভিদে পুর্ণাঙ্গ ক্যাটালগের কাজও বাংলাদেশ হারবাল ফার্মাকোপিয়া তৈরীর কাজ করছেন ইতোপূর্বে দেশের কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান করেনি।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণেল (অবঃ) আসিফ, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আবু সালেহ আকন, রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ্যাড. খান মোঃ জহুরুল হক প্রমুখ।

এসময় রাজবাড়ী ও ঢাকা থেকে আগত প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সকল সাংবাদিকরা ঔষধি বাগান ও ফ্যাক্টারি ঘুরে দেখেন।