নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে নারীদের উত্ত্যক্তকারী গ্যাংস্টার গ্রুপের আরো পাঁচ সদস্যকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১-এর সদস্যরা। গত মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার উত্তর ইসদাইর গাবতলী বটতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, ১২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও পাঁচটি রামদা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো : কামরুল হাসান (৩৭), সাদ্দাম হোসেন (২৮), আলমগীর হোসেন (২৮), জীবন মিয়া (২৭) ও লিটন চন্দ্র দাস (৩৫)।
গতকাল বুধবার দুপুরে র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপউদ্দিন (পিপিএম) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, তারা সবাই গ্যাংস্টার গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। এর আগে গত ২৪ অক্টোবর একই গ্রুপের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব। তারা বিভিন্নভাবে ওই এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী ও মেয়েদের শ্লীলতাহানি করে আসছিল। বিশেষ করে পোশাক শিল্পগামী নারীদের উত্ত্যক্ত শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রবল। গ্যাংস্টার গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন সময় ফতুল্লা থানা ও এর আশপাশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এলাকাবাসী এই গ্যাংস্টার গ্রুপের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও অস্ত্রের ভয়ে কখনো কেউ মুখ খুলত না বা প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। এই গ্যাংস্টার গ্রুপের নেতৃত্ব দেন গাবতলী নতুন বাজার এলাকার উজ্জ্বল নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী। উজ্জ্বল বর্তমানে পলাতক।

র্যাব আরো জানায়, গ্যাংস্টার গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের গাবতলী এলাকায় সন্ত্রাসী ও ছিনতাই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তারা সাধারণ জনগণের সাথে থাকা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ চাকু বা ব্লেড দিয়ে কেটে ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যেত। এ ছাড়াও ওই এলাকায় কোনো অপরিচিত লোক আসলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মূল্যবান জিনিস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিত।