গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে জনতার রোষানলে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা অবরুদ্ধ হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা আওয়ামী লীগ নেতাদের চলার পথ আটকে দিয়ে মিছিল করতে থাকেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ নেতারা ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলনে বান্ধাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ নভেম্বর থেকে কোটালীপাড়া ১১টি ইউনিয়নে সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলছিল। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শনিবার বিকেল ৪টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে বান্ধাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সম্মেলনে যোগ দেন।
সম্মেলন শেষে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনের জন্য উপজেলা কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র জয়ধর ও সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির ইউনিয়ন সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রার্থীদের লিখিত আবেদনপত্র জমা দিতে বলেন। এ সময় ইউনিয়ন সভাপতি পদে রতন কুমার মিত্র, কৃষ্ণপদ পাল, নিতাই দে, লিয়াকত হোসেন, আজম খান, রহিম মিয়া, সিরাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মহব্বত আলী গোলদার, আব্দুল হান্নান শেখ, মুজিবুর রহমান, মিজানুর রহমান মানিক, ইউনুস পাইক, ইমরান শেখ ও চুন্নু গাজী তাদের আবেদনপত্র জমাদেন। উপজেলা কমিটির কাছে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার দাবি জানায়। উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের দাবি না মেনে নিজেদের পছন্দ মতো সভাপতি পদে লিয়াকত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান মানিকের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় প্রার্র্থীদের সমর্থকরা আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘিরে এ কমিটি মানি না, মানব না বলে মিছিল করতে থাকেন।
এ ব্যাপারে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রতন কুমার মিত্র জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র জয়ধর আমাদের মতামতের তোয়াক্কা না করে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন। আমরা এ একতরফা ঘোষিত কমিটি মানি না। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুভাষ চন্দ্র জয়ধর বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।





