কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলে এক জমিতে ছয় ফসলের চাষ করা হয়েছে। বাম্পার ফসল দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
চরাঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে রবি ফসলের চাষ। সেই সাথে এক সাথে কয়েকটি ফসলের চাষ করে ব্যাপক সারা জাগিয়েছে চরাঞ্চলের কৃষককে। খরা, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকূলতার সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফসলের চাষাবাদ করে এ অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন।
প্রতিবছর বন্যার ভয়াবহতায় পাহাড়ী ঢল ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের ফলে বালি ও পলি মাটি মিশ্রিত হয়ে জমিতে মিশিয়ে চরাঞ্চলের ভূমির উর্বরতা বেড়ে যায়। তাই জমির প্রকারভেদে এখানে ফসল চাষে পার্থক্য দেখা যায়।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে জমিতে একই সাথে ছয় প্রকার ফসল চাষে সাফল্য অর্জন করছে কৃষকরা। সমতল ভূমিতে ইরি বোরো চাষ করা হলেও অসমতল ও বালি মাটিতে চাষ করা হচ্ছে নানা জাতীয় রবিশষ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফলুয়ারচর, বাঘমারা, চরবাঘমারা, বলদমারা, বাইশপাড়া, বড়চর, খেরুয়ারচর, চরপাখিউড়া, কুটিরচরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল এলাকার প্রায় ২ শ’ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে নানা জাতীয় ফসল।
চর পাখিউড়া গ্রামের শরিফ উদ্দিন, জিলকদ ও হাসান আলী জানান, আমাদের চরাঞ্চলের ভূমিগুলো অসমতল ও বালির পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইরি বোরোর পরিবর্তে একই জমিতে একই সাথে ছয় প্রকারের রবি ফসল চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। ওই জমিতে পাট, কলমিশাক, লাল শাক, মাসকলাই, মরিচ ফসলের চাষ করেন। এসব সবজি বপনের ১৫/২০ দিন পর সারিবদ্ধভাবে বাদাম, ঢেড়স, আখ চাষ করা হয়। এক মাসের মধ্যে এসব ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এবার রৌমারীতে রবি ফসলের চাষ হয়েছে প্রায় ২ শ’ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চরাঞ্চল এলাকায় একই জমিতে ৬/৭ প্রকারের ফসল ফলাচ্ছে কৃষকরা। এ ফসল রোপনের ক্ষেত্রে আমরাও কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি এবং আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।





