এক সময় শুঁটকির প্রতি তেমন একটা আকর্ষণ ছিল না। অনেকটা গরিবের খাবার হিসেবেই শুঁটকিকে বিবেচনা করা হতো। ইদানীং পাল্টেছে সেই ধারণা। যেকোনো আয়োজন বা অভিজাত পরিবারের খাবার মেনুর আধুনিক সংযোজন কিন্তু এখন শুঁটকি। সেই সাথে পাল্টেছে শুঁটকি তৈরির মান্ধাতা আমলের প্রক্রিয়াও। যোগ হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। বাড়ছে চাহিদা ও সচেতনতা।
দেশের বৃহত্তম শুঁটকি মহাল কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ, শহরের নাজিরাটেক, নুনিয়ারছরা, সদরের খুরুশকুল উপকূলে। মানে-গুণে সেরা এখানকার শুঁটকি। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও সমাদৃত। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে বিষ মেশানোর কারণে বদনামও হচ্ছে। তাই সচেতন ক্রেতারা অর্গানিক শুঁটকির প্রতি দিন দিন ঝুঁকছে। এসব বিবেচনায় রেখে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠছে অর্গানিক শুঁটকির প্রতিষ্ঠান।
কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিমানবন্দর সড়কসংলগ্ন এলাকায় (উত্তর নুনিয়ারছরা) বছর খানেক আগে যাত্রা করে ‘অর্গানিক বাইট বিডি’ নামের একটি শুঁটকির প্রতিষ্ঠান। মাত্র দু’টি শেডে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা হয়েছিল। আগে মাসে তিন টন মতো শুঁটকি উৎপাদন হলেও বর্তমানে বর্ধিত চাহিদার কারণে মাসে প্রায় পাঁচ টনের মতো শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে। তবে এখনো চাহিদা অনেক বেশি, প্রায় ১৫ টনের মতো। সেখানে এখন চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৫ টনে দাঁড়িয়েছে। ‘অর্গানিক বাইট বিডি’তে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সূর্যের তাপে শুকানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। রয়েছে সাতজনের মতো দক্ষ কর্মকর্তা ও শ্রমিক।
সরেজমিন দেখা গেছে, চারিদিকে পর্যাপ্ত আলো বাতাস সমৃদ্ধ খোলামেলা জায়গায় বসানো হয়েছে মাচাং ও নেটের শেড। ছুরি, লইট্টা, লাক্কা, পোয়া, চিংড়ি ইত্যাদি সামুদ্রিক মাছ পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাচ্ছে শ্রমিকরা। মাছে যাতে মাছি না বসে, সে জন্য নেটের শেড ব্যবহার করা হচ্ছে। মাছি তাড়াতে ফ্যান ব্যবহার করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে মাছগুলো উন্নতমানের পলিব্যাগে ভরে রাখা হয়। সাধারণত শুঁটকি থেকে দুর্গন্ধ বের হলেও এগুলো কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। উন্নতমানের প্রক্রিয়াকরণের কারণে গুদামঘরে ঢুকলেও তেমন গন্ধ নেই। শুঁটকি মাছগুলো দেখতে এক্কেবারে চকচকে।
গতকাল শনিবার দুপুরে ‘অর্গানিক বাইট বিডি’ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন। তিনি শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ দেখে সন্তুষ্টির কথা জানান। নিজের বাসার জন্য বেশ কয়েক প্রজাতির শুঁটকিও নেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্নধার মু. তৌফিক ইমাম জানান, সূর্যের তাপে শুকিয়ে সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতে মাছগুলো শুকানো হয়। মাছের গায়ে একটি মাছিও বসার সুযোগ নেই। শতভাগ অর্গানিক পদ্ধতিতে শুকানোর কারণে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে শহরের অভ্যন্তরে একটি ‘ডিসপ্লে সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অর্গানিক শুঁটকির চাহিদা বাড়ছে
এক সময় শুঁটকির প্রতি তেমন একটা আকর্ষণ ছিল না। অনেকটা গরিবের খাবার হিসেবেই শুঁটকিকে বিবেচনা করা হতো। ইদানীং পাল্টেছে সেই ধারণা। যেকোনো আয়োজন বা অভিজাত...





