বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা’ বলে দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি কাগজে-কলমে ছাত্রছাত্রী বান্ধব মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটা ছাত্রছাত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের জন্য এক দুর্যোগ নিয়ে আসবে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের বিষয়সমূহ ও প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র রয়েছে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এ যাবৎকালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়ে আসছে। তবে আমরা বলছি না যে, বর্তমান প্রক্রিয়ায় গলদ নেই বা সমন্বিত পরীক্ষায় কোনো উপকার নেই। দিনশেষে দেখতে হবে আমাদের প্রেক্ষাপটে কোন প্রক্রিয়াটি জুতসই।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরো বলেন, বর্তমানে বিরাজমান বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও মানসম্পন্ন উপায়ে সম্পন্ন করা ইউজিসি কিংবা শিক্ষামন্ত্রণালয় কারো পক্ষেই সম্ভবপর হবে না। আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে অসঙ্গতি থাকলে তা ১৯৭৩ অ্যাক্ট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমস্যা দূর করা সম্ভব। তাই এই ভর্তি পরীক্ষাকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের দুরভিসন্ধি বললে ভুল হবে না। সম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্টকে অবজ্ঞা করে ও সিনেটকে পাশ কাটিয়ে দলান্ধ, তল্পিবাহক ব্যক্তিদের ভিসি নিয়োগ দেয়ার যে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে প্রকৃতপক্ষে এই পদক্ষেপ তারই ধারাবাহিকতা। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বিরোধী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুসারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিন, সিন্ডিকেট, অর্থকমিটি ও শিক্ষাপর্ষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।