উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে আগৈলঝাড়া উপজেলার দাসেরহাট-আগৈলঝাড়া খালের নিমতলা নামক স্থানে এক ব্যক্তি সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। খাল দখলের ফলে কৃষি জমিতে সেচসঙ্কটসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ক্ষুব্ধ কৃষক ও এলাকাবাসী খালটি দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় লোকজন, ভুক্তভোগী কৃষক, দখলদার ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কূল-ঘেঁষে প্রবাহিত দাসেরহাট-আগৈলঝাড়া খাল। এই খাল দিয়ে দাসেরহাট, গৈলা, নিমতলা, কালুরপাড়সহ আশপাশের বাজারের ব্যবসায়ীরা নৌপথে মালামাল পরিবহনসহ কৃষকরা খালের পানি সেচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করে থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার দাসেরহাট-আগৈলঝাড়া খালের নিমতলা নামক স্থানে এক প্রভাবশালী সরকারি খাল দখল করে ৩৫ ফুট লম্বা ও ২৫ ফুট প্রস্থ খালের মাঝখানে স্থাপনা নির্মাণ করছেন ৮-৯ জন শ্রমিক। নির্মাণাধীন ঘরের খুঁটি খাড়া করে পাটাতনের কাজ শেষ করেছেন।
স্থানীয় আইয়ুব আলী (৫৫), তাহের সরদার (৪৩), নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, প্রভাবশালী হাবিব খলিফা সরকারি খাল দখল করে খালের মাঝে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করলে তারা ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করেন। এতে হাবিব খলিফা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হুমকি দেন এবং নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালের পানি দিয়ে খালপাড়ের দু’পাশের ১০টি বোরো প্রকল্পে সেচ দেয়া হয়। এ খালটিতে স্থাপনা নির্মাণ করায় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সেচসঙ্কট দেখা দিয়েছে এবং বোরো চাষিসহ সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন, কিন্তু হাবিব খলিফা তাদের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্মাণকাজ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যান। অভিযোগের ব্যাপারে দখলদার মো: হাবিব খলিফার কাছে জানতে চাইলে তিনি সরকারি খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই খালের জমি আমি দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের কামাল বেপারির কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় কিনে নিয়েছে। সরকারি খাল কারো ক্রয়-বিক্রয় করার অধিকার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী রওশন ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর লোক পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।





