ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা বাজারের মাছের আড়তকে ঘিরে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এলাকা নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার মানুষের সমাগম হচ্ছে। মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নারিশা বাজারে বেচাকেনা হয় পদ্মায় ধরা পড়া নানা প্রজাতির মাছ। আগে থেকেই এই আড়তে মাছ কিনতে আসা অধিকাংশ পাইকার ও জেলেদের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ও নারায়ণগঞ্জ জেলার।
আড়তটি স্থানীয় সালাউদ্দিন হাওলাদার, মজিবর বেপারী, মাহবুব কাজী, সম্রাট মোল্লা, রনি খান, আব্দুল কুদ্দুসসহ আরো কয়েকজন পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে পাইকার ও জেলেদের বাড়ি করোনা আক্রান্ত এলাকায় হওয়ায় স্থানীয়রা মাছের আড়তটি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এলাকার লোকজনের দাবিকে কর্ণপাত না করে আড়তদাররা আগের মতোই আড়ত চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের সহযোগিতায় মাছের আড়ত বন্ধ, জেলে ও পাইকারদের স্ব স্ব এলাকায় ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
পদ্মা নদীতে শিকার করা মাছকে কেন্দ্র করেই মাছের আড়তটি গড়ে উঠে। ১০/১৫ টি মাছধরা নৌকার সাহায্যে নারিশা পদ্মায় মাছ শিকার করে থাকে নারায়ণগঞ্জের জেলেরা। শিকার হওয়া মাছ পরের দিন ভোরে নারিশা বাজারে আড়তে নিয়ে যায়। মাছ কেনার জন্য ভোরবেলা সিএনজি করে পাইকাররা আসেন যাদের অধিকাংশের বাড়ি কেরানীগঞ্জ উপজেলায়।
নারায়ণগঞ্জের জেলেরা দু’একদিন পর পরই করোনা আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে আবার নারিশা পদ্মায় ফিরে আসেন। জেলেরা নারিশা আড়তে মাছ বিক্রির পাশাপাশি বাজারে ও এলাকায় ঘুরাঘরি করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা মনে করছেন, জেলে ও পাইকারদের মাধ্যমে ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস।
নারিশা এলাকার বাহালুল মোল্লা জানান, আড়তটি কেন্দ্র করে করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে আগত জেলে ও পাইকারদের কারণে এলাকায় করোনা ছড়াতে পারে। মানছেন না সামাজিক দুরত্ব। যে কারনে করোনা প্রতিরোধে আপাতত কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার লোকজন দোহারে আসা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বৈশ্বিক মহামারী করোনার হাত থেকে কেউই রেহাই পাবে না।
নারিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যন সালাউদ্দিন দরানী বলেন, আড়তটি বন্ধের জন্য আড়তদারদের বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা জানান, যদি মাছের আড়ত ঘিরে করোনা আক্রান্ত এলাকার মানুষজনের সমাগম হয়ে থাকে, তাহলে তা দ্রুতই বন্ধ করা হবে।





