শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। নির্মাণসামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহারের কারণে নির্মাণকাজ শেষ না হতেই এক ঘরে ফাটল ধরে বিধ্বস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বলছে ভিন্নকথা। তারা বলেছে নতুন মাটিতে ভবন নির্মাণ করায় মাটি ডেবে গিয়ে ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় জমি আছে ঘর নেই, এমন গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭২টি ঘর নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়। প্রতিটি দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ আসে প্রায় তিন লাখ টাকা করে। জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পদাধিকার বলে উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ত করা হয়নি বলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। চেয়ারম্যানরা জানান, তাদের কাছ থেকে শুধু স্বাক্ষর নেয়া হয়। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ। জানা গেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে শুধু সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে মনোকষ্টের কারণ হলেও ইউনিয়ন পরিষদের সব কাজ নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সম্পৃক্ত থেকেই করতে হয় বিধায় কেউ মুখ খুলছেন না। এ ছাড়া ঘর তৈরিতে নির্মাণসামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহারেরও অভিযোগ করেছেন অনেক সুবিধাভোগীরা। সুবিধাভোগীদের অভিযোগ নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে তাদের কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত প্রতিদিন দুপুরে নির্মাণ শ্রমিকদের খাবারও দিতে হয়েছে তাদের। বিষয়টি তাদের পক্ষে কষ্টের কারণও বটে। এমন অভিযোগ অনেকে সুবিধাভোগীদেরই। অন্য দিকে নির্মাণসামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহার করার কারণে নির্মাণকাজ শেষ না হতেই কোনো কোনো বিল্ডিংয়ের প্লাস্টার উঠতে শুরু করেছে বলে জানান সুবিধাভোগীরা। প্রয়োজনের তুলনায় নির্মাণসামগ্রী কম ব্যবহার করায় উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই গ্রামের আয়শা বেওয়ার ঘরে ফাটল ধরে ভেঙে পরার উপক্রম হয়েছে। আয়শা বেওয়া জানান, নির্মাণসামগ্রী কম ব্যবহার করার কারণে তার ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘর নির্মাণে নির্মাণসামগ্রী কম ব্যবহার করা হয়নি। নতুন মাটিতে ঘর নির্মাণের কারণে আয়শা বেওয়ার ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিষয়ে বলেন, ঘর নির্মাণের বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমার জবাবদিহিতা আছে।
তাই চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কাজ করানো হলে জবাবদিহিতার মধ্যে পরতে হবে এ কারণে আমি নিজেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছি তাতে কাজের মান অন্ন এলাকার কাজের তুলনায় শতভাগ ভালো কাজ হয়েছে।