ঢাকা-খুলনা রেলপথে ভাঙ্গার বামনকান্দা জংশনে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার পরে রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথের যোগাযোগ প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর চালু হয়েছে।

শনিবার (১০ মে) সকাল ১১টা নাগাদ বিকল্প লাইনে এই রুটে রেল চলাচল শুরু হয়। এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার পরে ভুল সিগন্যালের কারণে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোল পথে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


এ ঘটনায় পয়েন্টম্যান নজরুল ইসলামকে বরখাস্ত করে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার (৯ মে) দিবাগত রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রেলওয়ের পয়েন্টম্যান ভুল সিগন্যাল দেয়ায় ঢাকা থেকে খুলনাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের দু’টি কোচ ফরিদপুরের ভাঙ্গা বামনকান্দা জংশন এলাকায় লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার সকাল থেকে লাইনচ্যুত কোচ দু’টি উদ্ধারে ঈশ্বরদী ও খুলনা থেকে দু’টি রিলিফ ট্রেন ক্রেন এনে উদ্ধার কাজ শুরু করে।

ভাঙ্গা বামনকান্দা রেল জংশনের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খায়রুজ্জামান সিকদার জানান, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রাতেই যাত্রীরা বিভিন্ন পরিবহনে করে গন্তব্যে চলে গেছেন।

ভাঙ্গা জংশনের সহকারী রেল স্টেশন মাস্টার সুমন বাড়ৈ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেসটি ভাঙ্গা রেল জংশন থেকে বের হওয়ার কিছুদূর গিয়ে ইঞ্জিনসহ একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। সামনের ইঞ্জিন এবং লাগেজ ভ্যান দুটি এক লাইন থেকে অন্য লাইনের ওপর চলে যায়। এতে শুক্রবার রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পয়েন্ট ম্যান নজরুল ইসলামের ভুলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নজরুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েই সিগন্যাল বা পয়েন্ট চেঞ্জ করেছে। ভুল করার বিষয়ে সত্যতা পেয়েছি।

পাকশি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাচিনা খাতুন জানান, রাজবাড়ী ও খুলনা থেকে উদ্ধারকারী ক্রেনসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এসে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেন। সকাল ১১টা নাগাদ দ্বিতীয় একটি লাইন দিয়ে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এছাড়া ঢাকা-রাজবাড়ী রুটেও ট্রেন চলছে। লাইনচ্যুত কোচ দু’টি উদ্ধারে কাজ চলছে।