দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক পাগলী একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। তবে ওই সন্তানের জন্মদাতার সন্ধান মেলেনি। ওই সন্তানের বাবাকে পাগলী নিজেও বলতে পারছেন না। সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ শিশুটির জন্ম হয়।

জানা যায়, পাগলিটির বাবার বাড়ি উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে। ওই ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে তার বিয়েও হয়েছিল। সেখানে তার ২টি মেয়েও রয়েছে, যারা বর্তমানে স্বামীর ঘর করছে। প্রায় ৪ বছর পূর্বে তাকে তার স্বামী তালাক প্রদান করে। এরপর মাথা খারাপের কারণে অনেক দিন ধরেই তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে ঘোরাফেরা করতেন। রাত হলে সদরেরই একজনের উঠানের মাঝে থাকতেন। এরইমধ্যে ২০ জুলাই সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে তিনি সন্তান প্রসব করেন।

কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সাদিয়া কাশেম সাফা জানান, মা ও শিশু সুস্থ আছেন। পাগলিটির সন্তান প্রসবের বিষয়টি নবাবগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি অশোক কুমার চৌহান জানান, মেয়েটিকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বলতেই পারছেন না যে তার ওই সন্তানের বাবা আসলে কে? মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: নাজমুন নাহার শিশুটিকে দেখতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

তিনি জানান, যেহেতু শিশুটির অভিভাবক রয়েছে সেক্ষেত্রে করার কিছু নাই। অভিভাবকের মানসিক অবস্থা অস্বাভাবিক। তাই শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিভাবককে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী জানান, শিশুটির অভিভাবক রয়েছে। অভিভাবক থাকলে সেখানে তাদের করার কিছু থাকে না। অভিভাবক অপারগতা প্রকাশ করলে তখন তাকে অনাথ ঘোষণা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া যাবে। যাই হোক শিশুটি যেন ভালো থাকে এটাই সবার নিকট কাম্য।