প্রদীপ বাড়ৈ। গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শিক্ষার ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়ে তিনি এখন ক্র্যাচে ভর করে ঘুরে ঘুরে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে প্রদীপ বাড়ৈয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনায় তিনি শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন। তিনি শিশুশিক্ষার্থীদের বোঝান শুধু বই পড়ে আর বিদ্যালয়ে গেলেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যায় না, পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও গ্রহণ করতে হয়।
প্রদীপ বাড়ৈ জানান, ১৯৯৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ঢাকায় খ্রিষ্ট ধর্মীয় একটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চে চাকরি নেন। চাকরিতে থাকাকালে ধর্মীয় প্রচারে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। পরে বাড়িতে আসার পর সমাজের জন্য কিছু একটা করার পরিকল্পনা করেন। পরে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে শিশুশিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠদান শুরু করেন। সেই থেকে ক্র্যাচে ভর করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে দেড় শতাধিক শিশুশিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পাঠদান করছেন।
প্রদীপ বাড়ৈ জানান, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে এবং মেয়ে প্রথম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকান দিয়ে স্ত্রী যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে কোনো রকমে চালিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিনা বেতনে শিশুশিক্ষার্থীদের লেখাপড়া শিখিয়ে যাচ্ছি। আর্থিক সাহায্য পেলে নিজে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবেন।
শিক্ষার ফেরিওয়ালা প্রতিবন্ধী প্রদীপ
প্রদীপ বাড়ৈ। গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শিক্ষার ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়ে তিনি এখন ক্র্যাচে ভর...





